করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে মাঠে পুলিশ

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২১, ২২:২২

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরবাসীকে সচেতন করতে আবার মাঠে নেমেছে পুলিশ। বিনা মাস্কে অনেকেই বাসা থেকে বের হচ্ছেন। কাঁচাবাজার, শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলোতে যাতায়াতকারীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা, বেশির ভাগের মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক ব্যবহার না করার নানা অজুহাত দিচ্ছেন নগরবাসী। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সারা দেশে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, গত ২১ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পুলিশকে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়টি মানুষকে জোর করে শেখানো সম্ভব নয়। এ জন্য সচেতনতা বাড়াতে সারা দেশের পুলিশের ইউনিটগুলো ব্যানার টানিয়েছে। কোথাও কোথাও মাইকিং করছে। রাস্তায় কাউকে মাস্ক ছাড়া দেখলেই তার মুখে মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছে। সারা দেশে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ মাস্ক দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জনসাধারণকে মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করতে দেখা গেছে পুলিশকে। পল্লবী থানা এলাকার মিরপুর সাড়ে ১০ নম্বর এলাকা, বিহারী ক্যাম্প, কালশী, সাগুফতার মোড় এলাকায় পুলিশ করোনায় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করছে। পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমরা মাইকিং করছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করছি। যেসব পথচারী মাস্ক পরছেন না, তাদেরকে তাত্ক্ষণিক মাস্ক পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার আবাসিক এলাকা ও বাজার অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ মানুষের বিচরণ সবচেয়ে বেশি। গতকাল পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় জনসচেতনতা বাড়াতে পথচারীদের মধ্যে মাস্ক সরবরাহ করেন। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাযহারুল ইসলাম বলেন, গোলাপবাগ, ধলপুর, মাতুয়াইল ও কাজলা এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। যাদের মুখে মাস্ক নেই, তাদেরকে মাস্ক পরিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে।

রাজধানীর মিরপুর ৬০ ফিট এলাকায় মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন পুলিশের মিরপুর বিভাগের (মিরপুর জোন) এসি মঈনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘চলমান কর্মসূচির কারণে জনগণ অনেকটাই সচেতন হচ্ছে। তবে যারা এখনো মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন, তাদের সচেতন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ মিরপুর থানার ওসি মোস্তাজিজুর রহমান বলেন, ‘আইন প্রয়োগ নয়, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করব আমরা।’

মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে সচেতনতার বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি বলেন, পুলিশ সদস্যরা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে রয়েছেন। নানা ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাঠে নেমেছে। সংগঠনগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করছে।