সুনামগঞ্জের হিন্দুপল্লিতে সাম্প্রদায়িক হামলার তদন্তে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং আদিবাসী ও সংখ্যালঘুবিষয়ক সংসদীয় ককাস সোমবার যৌথভাবে জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ওয়েবিনারে এই কমিশন গঠন করা হয়।
সাত সদস্যবিশিষ্ট এই তদন্ত কমিশনের সদস্যরা হলেন—নির্মূল কমিটির চেয়ারপারসন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, রাশেদ খান মেনন এমপি, হাসানুল হক ইনু এমপি, ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, মানবাধিকারকর্মী আরমা দত্ত এমপি, নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ (সদস্য সচিব)। এই কমিশন আগামী এক মাসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রদান করবে।
ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা জব্বার বলেন, সুনামগঞ্জের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে নির্মূল কমিটির বক্তব্য জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, ’৭১-এর পরাজিত শক্তি আবার শক্তিশালী হচ্ছে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, প্রশাসন আমাদের ঢাকায় সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান করতে কঠোরভাবে নিষেধ করছে। কিন্তু শানে রিসালতের নামে যেখানে মামুনুল হক গিয়েছিলেন, সেখানে প্রশাসনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটা স্পষ্ট, এ ঘটনা হেফাজত ঘটিয়েছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, শাল্লায় হিন্দুদের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। করোনাকালে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা এবং উপড়ে ফেলার উসকানি ও হুংকার দিচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। তারা ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু, সংবিধান, বাঙালি সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে।
মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমি ঝুমন দাসের মন্তব্য দেখেছি, আইসিটি আইনে কোনো অবস্থায় ঝুমন দাসকে গ্রেফতার করা যায় না। স্থানীয় প্রশাসন পূর্বাহ্নে সতর্ক হলে এই হামলা এড়ানো যেত। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দোসররা বসে আছে।’
সভাপতির ভাষণে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘হিন্দুদের ওপর মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের হামলার অজুহাত হিসেবে সব সময় ফেসবুকে কোনো অমুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ আনা হলেও রামু থেকে নাসিরনগর পর্যন্ত সব হামলার পর গোয়েন্দা তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত অমুসলিম যুবক এর জন্য দায়ী ছিল না। ওয়েবিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঊষাতন তালুকদার, আরমা দত্ত এমপি, নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার নেতা সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, নির্মূল কমিটির সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্ত্তী জুয়েল, নির্মূল কমিটির সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল তুহিন,নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ।
