ক্যালেন্ডারের পাতায় ২৩ মার্চ দিনটাকে ‘অপয়া’ নামে চিহ্নিত করে রাখতেই পারেন মুশফিকুর রহিম। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে ম্যাচটা শেষ হতেই গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বছরের এই দিনে ক্রিকেট মাঠে মুশফিকের করা ভুলের ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
পাঁচ বছর আগে বেঙ্গালোরে টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে তীরে এসেও বাংলাদেশের জয়ের তরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অবিচ্ছেদ্য অংশ মুশফিক। গতকাল ক্রাইস্টচার্চে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে জিমি নিশামের লোপ্পা ক্যাচ ফেলেছেন কিপার মুশফিক। যা রীতিমতো অমার্জনীয়, অবিশ্বাস্য। গ্লাভস নিয়েও তার পিচ্ছিল হাত বছরের পর বছর পুড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের হূদয়। ক্যাচ ফেলেছেন মেহেদী হাসানও।
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে অধরা জয়টা উঁকি দিচ্ছিল গতকাল, ক্যাচ মিসের ভুলে ফিকে হয়ে যায় জয়ের স্বপ্ন। ক্যাচ মিসের সঙ্গে জঘন্য মিস ফিল্ডিংয়ে ৫ উইকেটে হেরে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। সিরিজটাও হেরে গেছে ২-০ তে। ওয়েলিংটনে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৬ মার্চ। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টায়।
ক্রিকেটপ্রেমীরা ভুলেননি ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিরুদ্ধে মুশফিকের অতীত কর্মও। ২০১৯ বিশ্বকাপে কিপার মুশফিকের শিশুতোষ ভুলে রানআউট হননি কেন উইলিয়ামসন। ম্যাচ হারে মাশরাফি দল, সেমির স্বপ্নও তিমিরে হারায়।
ডানেডিনের বাজে পারফরম্যান্সের পর গতকাল আগে ব্যাট করে তামিম, মিঠুনের হাফ সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ২৭১ রানের লড়াকু পুঁজি গড়েছিল বাংলাদেশ। ৫০তম হাফ সেঞ্চুরি করা তামিম ৭৮, মিঠুন ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ৭৩ রান করেন। ৫৯ বলে ৩৪ রানের খেলেন মুশফিক। মিডল অর্ডারে তার এমন শ্লথ গতির ব্যাটিং পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরিই বেমানান ছিল। সৌম্য ৩২, মাহমুদউল্লাহ ১৬ রান করেন। জবাবে টম লাথামের পঞ্চম সেঞ্চুরিতে ৪৮.২ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৫ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিকরা। অথচ ৫৩ রানে ৩ উইকেট ফেলে বোলিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই ছিল। লাথাম-কনওয়ের ১১৩ রানের জুটি ভাঙে ৩৪তম ওভারে। তাসকিনের করা ৩৬তম ওভারের প্রথম বলে ৩ রানে থাকা নিশামের ক্যাচ ফেলেন মুশফিক। পরের ওভারে ৫৮ রানে থাকা লাথামের ফিরতি ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি মেহেদী হাসান। সেই লাথামই অপরাজিত ১১০ রান করেছেন।
খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এ দুটি ক্যাচ মিস বাংলাদেশকে জয়ের রথ থেকে ছিটকে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে তামিমের কণ্ঠেও সেই আক্ষেপই ঝরল। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘দুইটা সুযোগ যেটা মিস করলাম, এই চান্সগুলো (ক্যাচগুলো) যদি তুলতে পারতাম তাহলে এই ম্যাচটা আমাদের জেতা উচিত ছিল।’ নিউজিল্যান্ডে জয়ের সেরা সুযোগ হারিয়ে হতাশ তামিম। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমরা এখানে ম্যাচ জিততে এসেছি। আজ (গতকাল) সেরা সুযোগ ছিল যা আমরা মিস করেছি।’
স্কোরকার্ড
টস: নিউজিল্যান্ড
বাংলাদেশ ইনিংস রান বল চার ছয়
তামিম রান আউট (নিশাম) ৭৮ ১০৮ ১১ ০
লিটন দাস ক ইয়াং ব হেনরি ০ ৪ ০ ০
সৌম্য স্ট্যাম্পড লিটন ব স্যান্টনার ৩২ ৪৬ ৩
মুশফিক ক নিকোলস ব স্যান্টনার ৩৪ ৫৯ ৩ ০
মিঠুন অপরাজিত ৭৩ ৫৭ ৬ ২
মাহমুদউল্লাহ ক গাপটিল ব জেমিসন ১৬ ১৮ ১ ০
মেহেদী হাসান ক নিকোলস ব বোল্ট ৭ ৫ ০ ১
সাইফউদ্দিন অপরাজিত ৭ ৪ ০ ০
অতিরিক্ত (লেবা ৬, নো বো ১, ও ৭) ২৪
মোট ৫০ ওভারে ২৭১/৬
উইকেট পতন : ১-৪ (লিটন), ২-৮৫ (সৌম্য), ৩-১৩৩ (তামিম), ৪-১৮৪ (মুশফিক), ৫-২৪৭ (মাহমুদউল্লাহ), ৬-২৫৮ (মেহেদী হাসান)।
নিউজিল্যান্ড বোলিং : বোল্ট ১০-০-৪৯-১, হেনরি ১০-৩-৪৮-১, জেমিসন ১০-২-৩৬-১, নিশাম ৯-০-৭৩-০, স্যান্টনার ১০-০৫১-২, ড্যারেল মিচেল ১-০-৮-০।
নিউজিল্যান্ড ইনিংস রান বল চার ছয়
গাপটিল ক এন্ড ব মুস্তাফিজ ২০ ২৪ ৩ ১
নিকোলস ব মেহেদী হাসান ১৩ ১৮ ১ ০
কনওয়ে রান আউট (তামিম) ৭২ ৯৩ ৭ ০
ইয়াং ব মেহেদী হাসান ১ ৭ ০ ০
লাথাম অপরাজিত ১১০ ১০৮ ১০ ০
নিশাম ক সৌম্য ব মুস্তাফিজ ৩০ ৩৪ ২ ০
ড্যারেল মিচেল অপরাজিত ১২ ৬ ২ ০
অতিরিক্ত (লেবা ৪, ও ১৩) ১৭
মোট ৪৮.২ ওভারে ২৭৫/৫
উইকেট পতন: ১-২৮ (গাপটিল), ২-৪৩ (নিকোলস), ৩-৫৩ (ইয়াং), ৪-১৬৬ (কনওয়ে), ৫-২৪২ (নিশাম)।
বাংলাদেশ বোলিং: মুস্তাফিজ ৮.৩-০-৬২-২, তাসকিন ১০-০-৬৭-০, মেহেদী হাসান ১০-১-৪২-২, সাইফউদ্দিন ৭.২-০-৪৩-০, মিরাজ ১০-১-৩৮-০, মিঠুন ২-০-১২-০, সৌম্য ০.৩-০-৭-০।
ফল: নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: টম লাথাম (নিউজিল্যান্ড)
সিরিজ: নিউজিল্যান্ড ২-০ তে এগিয়ে
