উপন্যাস, গল্প আর কবিতা বইমেলায় সব সময় এসব বই বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে বদল ঘটছে মানুষের পছন্দের। বিষয়ভিত্তিক বইয়ের প্রতি ঝুঁকছে পাঠক। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই এবং বঙ্গবন্ধুর লেখা দুটি বইয়ের কদরও অনেক। আর এ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সব প্রকাশনীই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন রেখেছে।
বিভিন্ন স্টলে কথা বলে জানা গেল কিশোর-তরুণদের মধ্যে এখন বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও মক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইয়ের চাহিদা। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড—ইউপিএলের বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানালেন, তাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বইয়ের নাম ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। এর পরেই রয়েছে ‘মূলধারা ৭১’। বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়ন থেকে জানানো হয়, তাদের বিক্রিতে শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন অভিধান। এর পরই রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়াচীন’ এবং এ দুটি গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থ। প্রকাশকরা জানালেন সবচেয়ে আশাপ্রদ ঘটনা।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থের সবচেয়ে বড় ক্রেতা তরুণ ও কিশোররা। মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক রচনার প্রতি সব বয়সি পাঠকের আগ্রহ থাকলেও নবীনদের আগ্রহের মাত্রাটা অনেক বেশি। ফলে প্রকাশকরাও এসব বই প্রকাশে বিশেষভাবে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
এ প্রসঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, অনেক বই প্রকাশিত হচ্ছে কিন্তু সেসবের মান দেখে আমি খুব হতাশ। প্রকাশিত এসব বই বেশির ভাগই একই তথ্য নিয়ে প্রকাশ হচ্ছে। ফলে বেশির ভাগ বইয়ের মধ্যে বিষয়গত দিক থেকে কোনো তফাত্ নেই। যারা এই কাজগুলো করছেন তারা দায়সারাভাবে বই প্রকাশ করছেন। এটি খুব হতাশাজনক বঙ্গবন্ধুর জন্মের ১০০ বছর পেরিয়ে যাবার পরেও সরকারিভাবে তার জীবনী প্রকাশ করা হয়নি।
আগামী প্রকাশনী এনেছে বঙ্গবন্ধু-মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সিরিজ গ্রন্থমালা। অবসর প্রকাশনী থেকে গোলাম মুরশিদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাংস্কৃতিক পটভূমি’ প্রকাশিত হয়েছে। আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি জানান, কিশোর-তরুণরা বঙ্গবন্ধুকে জানতে চায়। সেই আগ্রহ থেকে এ বইটি তাদের নজর কেড়েছে।
মেলায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই: মেলায় মঙ্গলবার নতুন বই এসেছে ১১৮টি। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুবিষয়ক বই প্রকাশ পেয়েছে ১৪টি আর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই প্রকাশিত হয়েছে ২৭টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে—অন্যপ্রকাশ থেকে হারুন হাবীবের ‘কলকাতা ৭১’, হারুন-অর-রশীদের ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’, গ্রন্থকুটির থেকে এসেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কাব্যগ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা’। আগামী প্রকাশনী থেকে এসেছে মোনায়েম সরকারের ‘স্বাধীন স্বদেশে জনকের প্রতিধ্বনি’, হুমায়ুন মালিকের উপন্যাস ‘মুজিব’, আসাদ মান্নানের কাব্যগ্রন্থ ‘এলিজি মুজিব নামে’, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘শেখ কামাল যদি আজ বেঁচে থাকতেন’ এবং মইনুল আহসান সাবেরের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই ‘পাথর সময়’, অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরীর বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ আহমদ পাবলিশিং হাউজ থেকে ড. আনু মাহমুদের প্রবন্ধ ‘বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের স্রষ্টা’ প্রভৃতি।
মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান: মঙ্গলবার ষষ্ঠ দিনে মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধ ও নারী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনিরুজ্জামান শাহীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ জাকীর হোসেন এবং এ কে এম জসীমউদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেলিনা হোসেন।
আজকের অনুষ্ঠান: আজ বুধবার বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধে সংবাদ সাময়িকপত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাফর ওয়াজেদ। গতকাল লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মোহিত কামাল, জাহেদ সারওয়ার এবং অনন্ত উজ্জ্বল।
ইত্তেফাক/বিএএফ
