ভোগাই নদীতে থেমে নেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২১, ২১:৩০

সামেদুল ইসলাম তালুকদার, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা

নালিতাবাড়ীতে অবৈধভাবে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে বালু উত্তোলনে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে ভোগাই নদী। অন্যদিকে ১০ চাকার বড় ট্রাকে ৪০-৫০ টন বালু নিয়ে চলাচল করায় গ্রামীণ সড়কও নষ্ট হচ্ছে। মঙ্গলবার উপজেলায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে এবং সূত্রে জানা যায়, নদীর বিভিন্ন অংশ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বালু মহাল হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়। ফলে নদীর ইজারাকৃত বৈধ অংশের পাশাপাশি নিষিদ্ধ স্থানসমূহেও চলছে বালু উত্তোলন। বালুখেকোরা বর্তমানে নদীর তীর ভেঙে ৩০-৪০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে বালু উত্তোলন করছে। এখন জনসাধারণের চোখের আড়ালে তারা রাতে বালু উত্তোলন করছে। নদীর ‘নয়াবিল ডাক্তার গোপ’ নামক স্থানে খননযন্ত্রগুলো গর্জে উঠছে বিকট শব্দে। একই অবস্থা আরো দুই-তিনটি স্থানে। কয়েক দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভীন রাত সাড়ে ৩টায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও আগেভাগেই খবর পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা সরে পড়ে। এলাকার সচেতন মহল বলছেন, ভোগাই নদীতে এখন আর বালু বলতে কিছু নেই। নদীর তীরবর্তী জমি খুঁড়ে নদীর পাড় ভেঙে ও নদীর তলদেশ ৩০-৪০ ফুট বোরিং করে ফাটিয়ে ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় সরকারিভাবে ইজারা প্রদান বন্ধ ও আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলাসহ কঠোর আইনি প্রয়োগের দাবি উঠেছে।

নয়াবিল বাজারের পাশে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে থাকা মানুপাড়া গ্রামের লতিফুল ইসলাম বকুল তার ফেসবুকে লিখেছেন এখন ‘রাত ৩:২০। ভোগাই নদীর বালু উত্তোলনকারী মেশিনের শব্দের জন্য ঘুম আসছে না। আল্লাহ্ নদীর আশপাশের মানুষদের রহমত করো।’ আসিফ আহমেদ নামের একজন লিখেছেন ‘উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।’ তিনি প্রশাসনকে জানানোর একটি স্ক্রিন শটও ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। শাহজালাল নামের একজন লিখেছেন ‘সারা রাত ঘুমাতে পারি না। কাকে বললে সমাধান হবে তাও বুঝতেছি না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভিন বলেন, ‘প্রশাসনের একার পক্ষে বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব না। সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। রাতের বেলায় বালু উত্তোলন বেআইনি। অবশ্যই আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।’ উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু বলেন, ‘যেভাবে নদীর পাড় (তীর) ভেঙে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, এতে বর্ষায় প্লাবিত হয়ে পাঁচ-ছয়টি ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।’