আবর্জনা অপসারণের নামে শীতলক্ষ্যার মাটি লুট

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২১, ২১:৪৫

বিআইডব্লিউটিএ সিবিএ নেতার মদত

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ময়লা আবর্জনা অপসারণের নামে চলছে শীতলক্ষ্যা নদী তীরের মাটি লুট। অস্বাভাবিক গভীর করে কেটে নেওয়া হচ্ছে নদী তীরের মাটি। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে নদী ভাঙনের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। নদী পাড়ের বাসিন্দারা জানান, বিআইডব্লিউটিএর কয়েক জন অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন কয়েক শ শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে নদী ভাঙন শুরু হওয়ায় শঙ্কিত তারা। বন্দর খেয়াঘাটের ময়মনসিং পট্টি থেকে চিত্তরঞ্জন ঘাট সংলগ্ন ভাসমান ডকইয়ার্ড পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে চলছে নদী তীরের মাটি লুটের এ মহোত্স। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও, মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন অনুমতি নিয়েই মাটি কাটছেন তারা।

সূত্র জানায়, কফিলউদ্দিন নামে সিদ্ধিরগঞ্জের এনায়েতনগর এলাকার এক ব্যক্তি নদী পাড়ের ময়লা আবর্জনার স্তূপ অপসারণের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালকের কাছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল স্বাক্ষরিত এক পত্রে ১৫টি শর্তে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়ে ভাসমান ডকইয়ার্ডের দক্ষিণ পাশের ময়লা আবর্জনার স্তূপ নিজ খরচে কায়িক শ্রমে কোদাল দিয়ে অপসারণের অনুমতি দেওয়া হয় । এর পরই শুরু হয় নদীর তীর ভূমি কেটে মাটি লুট।

সরেজমিন বন্দরের দেউলী চৌরাপাড়া বিআইডব্লিউটিসির ভাসমান ডকইয়ার্ড সংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে নদী তীরে ১০/১২ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ভাঙন। এতে আশপাশের ঘরবাড়ি ও কলকারখানা রয়েছে ভাঙন ঝুঁকিতে। আবর্জনা অপসারণের সময় নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের বন্দর ও পরিবহন বিভাগ, নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগ এবং প্রকৌশল বিভাগের এক জন করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও মাটি কাটার সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানায়, বিআইডব্লিউটিএর সিবিএ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের ছত্রছায়ায় কেটে নেওয়া হচ্ছে পাড়ের মাটি। এতে লাভবান হচ্ছে একটি অসাধু চক্র। এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর আলম জানান, নদী খননের পর মাটি অপসারণের কোনো বাজেট নেই। তাই যাদের সামর্থ্য আছে তারা মাটি নিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আবর্জনা অপসারণের অনুমতি নিয়ে তীরের মাটি কেটে নেওয়া অন্যায়। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।