জীবননগরে আড্ডা আর গল্পে জমজমাট প্রবীণ ক্লাব

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২১, ০০:২২

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

বৃদ্ধ বয়সে সমবয়সিদের সঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়াসহ কেউ অসুস্থ হলে তার খোঁজখবর নেন প্রবীণেরা। বিকেল হলেই সবাই চলে আসেন প্রবীণ সামাজিক কেন্দ্রে। গল্পে স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান জীবনের স্বর্ণময় ও দুঃখের দিনগুলোর। এই কেন্দ্রের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে তার শারীরিক খোঁজখবর নেন সদস্যরা। বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় গড়ে উঠেছে এমন আটটি প্রবীণ  ক্লাব, যার পোশাকি নাম প্রবীণ সামাজিক কেন্দ্র। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও রুলার রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন-আরআরএফ। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফ এই কাজে সংস্থা দুটিকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে আসছে। বেসরকারি সংস্থা দুটি সমাজে প্রবীণদের গুরুত্ব তুলে ধরাসহ পরিবারের সদস্যরা যাতে তাদের পিতামাতার খোঁজ নেয়, সেসব নিয়ে কাজ করছে। সংস্থা দুটি ঐ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে অসহায় বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করছে।

মনোহরপুর সামাজিক কেন্দ্রের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বদর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান ও দোসর আলীসহ অনেকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। উপজেলার সীমান্ত, মনোহরপুর, কেডিকে, উথলী, আন্দুলবাড়িয়া, রায়পুর, হাসাদাহ ও বাঁকা ইউনিয়নে এ রকম আটটি প্রবীণ সামাজিক কেন্দ্র রয়েছে।

সীমান্তের প্রবীণ সামাজিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক বলেন, তারা সবাই মিলে অসহায় এক প্রবীণকে দোকান করে দিয়েছেন। দোকান চালিয়ে তিনি তার সংসারের অভাব ঘুচিয়েছেন। প্রকল্পের ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ জানান, মানসিক বিকাশে প্রবীণ সামাজিক কেন্দ্র প্রবীণদের উদ্বুদ্ধ করে থাকে। পিতামাতাকে সেবা প্রদানকারী শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি বছর পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে।

ঢাকা থেকে বাংলাদেশ এজিং সাপোর্ট ফোরামের সভাপতি হাসান আলী সম্প্রতি জীবননগরে প্রবীণ সামাজিক কেন্দ্রের বৃদ্ধদের খোঁজখবর নিতে যান। তিনি বলেন, কেন্দ্র পরিদর্শন করতে এসে আমার ধারণাই পালটে গেছে। এই কেন্দ্রগুলো বৃদ্ধ আশ্রমের মতো নাজুক না। প্রবীণেরা অ্যাকটিভ আছেন বলেই প্রবীণ সামাজিক কেন্দ্রগুলো সচল রয়েছে।