ইউপি চেয়ারম্যানের শতকোটি টাকার সম্পদ!

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২১, ২২:৩৮

নামেই তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এই পরিচয় ব্যবহার করে গত ১০ বছরে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। সুদের ব্যবসা দিয়ে শুরু, এরপর কী করেননি তিনি! নানা ধরনের প্রতারণা, নদী দখল করে সেখান থেকে বালু উত্তোলন, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত্, সরকারি ও বেসরকারি মালিকানার জমি দখলসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়েছেন তিনি। আলোচিত এই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হচ্ছেন সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার গাঁড়াদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। দুর্নীতি দমন কমিশন ইতিমধ্যে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবনা আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমান ইতিমধ্যে বিষয়টি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জানিয়েছেন। দুদকের অভিযোগপত্রে দেখা যায়, গাঁড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মক্তবে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে পুরোদস্তুর মাদক ব্যবসায়ী বনে যান। এতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে             তার ওঠাবসা শুরু হয়। প্রভাবশালীরাই তাকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে থাকেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর সাইফুল ইসলাম এলাকায় প্রতি রাতে জুয়ার আসর বসিয়ে বিপুল অর্থ বাগিয়ে নেন। এছাড়া মাদক ব্যবসা, সুদের ব্যবসা, নানান ধরনের ঠিকাদারি, ভূমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িয়ে পড়েন। তার দৃশ্যমান বিভিন্ন ব্যবসায় শত শত কোটি টাকার মালিকানা মিললেও আয়কর বিবরণীতে তার প্রমাণ পাওয়া যায় না।

দুদকে পাওয়া অভিযোগপত্রে দেখা যায়, সাইফুল ইসলাম মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ২০১৮ সালে তার গ্রাম মশিপুর মাদকের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান অর্জন করে। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন প্রকল্প ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প থেকে তিনি ঘরপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া তিনি করতোয়া নদীর তালগাছি, নরিনা ও গাড়াদহ প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও সাইফুল ইসলাম আবারও তার অপকর্ম বজায় রাখেন।

এসব বিষয় নিয়ে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নানা ধরনের ঝামেলার কারণে তিনি পলাতক রয়েছেন। দুদকের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ তবে দুদকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাইফুল ইসলামের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টির প্রমাণ মিলেছে। শিগিগরই তদন্ত শেষ করে এ বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়া হবে।