লালবাগ কেল্লা পুনর্গঠন ও সংরক্ষণে সহযোগিতা মার্কিন অংশীদারিত্বের উদাহরণ ------------------- মিলার

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২১, ০০:৩২

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে মোগল আমলের লালবাগ কেল্লার হাম্মামখানা পুনর্গঠনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লার সাংস্কৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রামাণ্য সংরক্ষণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, লালবাগ কেল্লার হাম্মামখানার পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্বের আরো একটি উদাহরণ। বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যত্ গড়তে সহযোগিতা করার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও স্থায়ী অংশীদার ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মর্যাদাপূর্ণ অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) কার্যক্রমের অর্থায়নে এক বছরব্যাপী এই প্রকল্পের আওতায় ১৭ শতকে নির্মিত লালবাগ কেল্লার আওতাভুক্ত প্রধান তিনটি স্থাপনার অন্যতম হাম্মামখানা পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়া হবে। ২০২২ সালে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর হাম্মামখানার দুটি তলাই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রদূত মিলার ও প্রতিমন্ত্রী খালিদ একটি আলোকচিত্র ধারণকারী ড্রোন চালনার মাধ্যমে প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং স্থানটি ঘুরে দেখেন।

লালবাগ কেল্লার হাম্মামখানার পুনর্গঠন, সংস্কার ও ত্রিমাত্রিক প্রত্নতাত্ত্বিক প্রামাণ্য সংরক্ষণ প্রকল্প পরিচালিত হবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নেতৃত্বে। এর স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলো পুনরুদ্ধারে ঐতিহাসিকভাবে নির্ভরযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করা হবে এবং এর নিরাপত্তা ও কাঠামোগত স্থায়িত্ব বাড়াতে অত্যাধুনিক রেট্রোফিটিং প্রযুক্তির ব্যবহার হবে। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঐতিহ্যের প্রভাব মূল্যায়নে প্রথাগত ও আধুনিক ড্রোন-ভিত্তিক ত্রিমাত্রিক প্রত্নতাত্ত্বিক প্রামাণ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।

অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন কার্যক্রমটি বিদেশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উদ্যোগগুলোর অন্যতম। গত ২০ বছরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ১১টি এএফসিপি প্রকল্পে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে।