সংবাদপত্রকে সরকার শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিলেও অন্যান্য শিল্প খাতের ন্যায় সুবিধা পাচ্ছে না এ খাত। অন্যান্য শিল্প যেভাবে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়, একইভাবে সংবাদপত্র শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্ককর মওকুফ চেয়েছে এ খাতের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনের ওপর অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, করপোরেট করহার ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমন প্রস্তাব দেন নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ঐ সভায় নোয়াবের সাবেক সভাপতি মাহফুজ আনাম ছাড়াও অন্য সদস্যরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে এ সময় এনবিআরের বাজেট সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এ কে আজাদ সংবাদপত্র শিল্পের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সংবাদপত্র শিল্পে বর্তমানে সব মিলিয়ে শুল্ককরের পরিমাণ ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়াও ১৫ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর), ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ছাড়াও আগাম কর (অ্যাডভান্স ট্যাক্স বা এটি) রয়েছে। অথচ সরকার ঘোষিত অন্যান্য শিল্প খাত শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করে জিরো ট্যারিফে। তিনি বলেন, স্থানীয় কাগজের মান ভালো নয়। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিতে সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যাও অনেক কমে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবাদপত্র শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল বিবেচনায় নিউজপ্রিন্টের ওপর শুল্ককর প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। এছাড়া টেক্সটাইলসহ অন্যান্য খাতে করপোরেট করহার ১৫ শতাংশের নিচে হলেও সংবাদপত্র শিল্পে ৩৫ শতাংশ। এই করহার ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও দেন তিনি।
মাহফুজ আনাম বলেন, সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে সহানুভূতিশীল দৃষ্টি চাই। এছাড়া এটি সেবামূলক শিল্প। অন্যান্য শিল্পের কাঁচামালে কম শুল্ককর আর এ খাতে ৩০ শতাংশ। আবার করপোরেট করহার ৩৫ শতাংশ। করোনায় সংবাদপত্র শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই সময়ে সহযোগিতা দরকার।
নোয়াবের অপর সদস্য দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপনের বিল প্রদানকালে ভ্যাট কেটে রাখে, কিন্তু চালান দেয় না। চাইলেও দেয় না। এতে ভয়ংকর চাপ তৈরি হয়। অন্যদিকে বিজ্ঞাপন বিলের ওপর ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর কেটে রাখা হয়। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এক বছরের জন্য অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন তিনি।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, শুধু রাজস্ব আহরণ নয়, এনবিআর স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার দিকেও নজর দেয়। দেশে বেশকিছু কাগজের মিল রয়েছে। কিন্তু তারা গুণমানসম্পন্ন কাগজ দিতে পারছে কি না, জানি না। যদি না পারে এবং আমদানিতে নির্ভর হতে হয়—সেটি বিবেচনা করব।
আলোচনায় অংশ নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর সভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, দেশের ৭৫ শতাংশ বিজ্ঞাপন পাচার হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য সফল হলেও সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এটি বড় জালিয়াতি। এছাড়া ক্যাবল টিভি (ডিশ সংযোগ) সেবাদানকারীদের কাছ থেকে সঠিকভাবে ভ্যাট আদায় না হওয়ায় সরকার বছরে ১ হাজার ৭২০ কোটি টাকার ভ্যাট এবং আরো প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার আয়কর হারাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। ক্যাবল অপারেটরদের কাছ থেকে সঠিক রাজস্ব আদায়ে একটি একক কর্তৃপক্ষ গঠনে গুরুত্ব দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলব।
