স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমণকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পালটাপালটি কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্রলীগ অবস্থান নেয়। এসময় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা শহিদ মিনার এলাকার দিক থেকে এসে তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় পরিষদ মঙ্গলবার বিকালে মোদিবিরোধী কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে কালো পতাকা মিছিল করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বিকালে রাজু ভাস্কর্যে মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভাস্কর্যের পাদদেশে আগে থেকেই ছাত্রলীগ অবস্থান নেওয়ায় সমাবেশস্থল পরিবর্তন করে সংগঠনটি। পরে মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সড়ক দ্বীপ, রাজু ভাস্কর্য এবং শামসুন নাহার হল প্রদক্ষিণ করে টিএসসির ডাসের সামনে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে তারা মোদিবিরোধী এবং হামলার বিচার দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।
পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইনের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, মশিউর রহমান, মাহফুজুর রহমান খান, সোহরাব হোসেন, ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
মোদিকে স্বাগত ছাত্রলীগের
অন্যদিকে একই সময়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘অদম্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ছাত্র সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
সংগঠনের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও হল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, আইএস মোসাদ এবং বৈদেশিক কূটনীতিকদের টাকা দিয়ে গড়া যে কয়েকটি তথাকথিত সংগঠন যাদেরকে ছাত্রসংগঠন হিসেবে স্বীকার করে না বাংলাদেশের কোনো ছাত্র সংগঠন সেই তথাকথিত জঙ্গি সংগঠন কালো পতাকা মিছিল করে। আসলে এই কালো পতাকা তাদের মনের ভেতরে যে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি রয়েছে সেটিরই পরিচায়ক।
