বাংলা গানের যুবরাজ খ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবরের জন্মদিন আজ। ১৯৭২ সালের ২৫ মার্চ কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন আসিফ। তবে বিগত বছরগুলোর মতোই জন্মদিনে কোনো আয়োজন থাকছেন না। কারণ, ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার পর থেকেই তিনি নিজের জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে ইত্তেফাক অনলাইনকে আসিফ আকবর বলেন, জন্মদিন মানে জীবন থেকে আরও একটি বছর চলে যাওয়া। ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার পর থেকে জন্মদিন পালন করিনা। তবুও আমার পাগল ফ্যানরা দেশ-বিদেশে নিজেদের মতো করে কেক কাটে। গতরাত থেকে মুঠোফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন প্রিয়জনরা। এই ভালোবাসার আসলে কোনো নাম হয় না। রঙ নেই। অমূল্য ভালোবাসা। সবাই আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। ভালোবাসা অবিরাম।
এদিকে ফেসবুকে লম্বা স্ট্যাটাস দিয়েছেন আসিফের স্ত্রী সালমা আসিফ মিতু। ইত্তেফাক অনলাইনের পাঠকদের জন্য সেটি তুলে ধরা হলো-
“আসিফ আকবরের সাথে পরিচয়ের পর হঠাৎ একদিন জানতে চাইলাম, আচ্ছা তোমার জন্মদিন কবে? বলল, ২৫ মার্চ। কি বল আজ ই তো! হুম। আচ্ছা তাহলে সন্ধ্যায় আমরা কেক কাটব কেমনে। আসবে তো! আসতে পারবে তো! হুম। আচ্ছা। ঘটনা কাল সন উনিশ নব্বই। জেনেছি দুপুরের পর খেলার সময়। আমার তো চিন্তার অন্ত নেই কেক কই পাই। সে যুগে তো এতো টা আধুনিক ছিলাম না। আবার টাকাও ব্যাপার কিনতে যাওয়াও ব্যাপার। কি যে করি! হঠাৎ বুদ্ধি এলো ‘সুজি’ দিয়ে কেক বানাই। জোলাবাতির মতো অবস্থা (কুমিল্লার একটা প্রথা উৎসবের নাম) মাগরিবের পর আসবে সময়ও বেশি নেই হাতে। ঝটপট সুজির হালুয়া। বানিয়ে কেকের সাইজ করে উপরে কিসমিস দিয়ে লিখে দিলাম। শুভ জন্মদিন আসিফ। নিজের কাছেই কেমন অদ্ভুত লাগছিল, সাথে ছিল চরম বোকা বোকা কাজ কেননা আমি এই করব কেন! আমার চেয়ে স্বাধীন মেয়ে আর আমার পাড়ায় কেউ ছিল না। তবে!! শুধু স্পষ্ট মনে আছে তাই করে খুব আনন্দিত হয়ে ছিলাম। এমন বেস কিছু উটকো কাজ আমি জীবনে করেছি।

সন্ধ্যার কিছু পর তিনি আসলেন বাসায় ছিল খেলার কিছু বন্ধুরা। রান্না করে সুজির কেক আনতে গিয়ে হঠাৎ আমার পা পড়ল সাপের শিশুর উপর কোথা থেকে এল বুঝলাম না। চিৎকার দিতে গিয়ে দেখি তিনি পিছনে দাঁড়িয়ে। আলতো করে সাহস আর সঙ্গী হলেন। আসলে তিনি যে এতটা ছায়ার মতো থাকত বুঝিনি। সত্যি বলতে আমি খেলা পাগল আদরের দুলারী কখন চিন্তা করিনি কারো প্রতি আমার এতটা অনুভূতি জাগবে।
মাঝে মাঝে মনে হয় সেই ভালবাসার মন আজ কোথায়! নামিদামী মানুষরা ভালবাসতে জানে না। সব থাকে মেকি সব থাকে স্বার্থে জর্জরিত। কারণ এই পর্যায়ে মানুষের ভালবাসার বা চাওয়া-পাওয়ার কমতি থাকে না। হাতের কাছে সহজেই পেয়ে যায় হাত পাততে কিংবা মুখ থেকে আ... বের হতেই হাত বাড়ালেই পেয়ে যায় কমতি থাকে শুধু স্বচ্ছতার কমতি থাকে শুধু সত্যতার কমতি থাকে শুধু রিয়েলিটির।
সব গানের ভাষার শুধু থাকে ছেলের কন্ঠে যেখানে পাওয়া যায় ছেলেটি ভালবাসার মানুষটির জন্য উদাস, ছন্নছাড়া। মেয়ের কন্ঠে খুব কম আছে যেখানে বোঝাতে পারে যে ভালবাসার মানুষটির জন্য মেয়েটিরও একই অবস্থান। আসিফ সেই গান গুলোই বেশি গেয়েছে এবং ছেলে মেয়ে সবার জন্যই একই অবস্থার বসত। যেমন লিটন ভাইয়ের একটি গান আছে - "তুমি কি আমায় আগের মত বাসো....ভাল....হয়তো না....হয়তো হ্যাঁ...তবে না হলেও ক্ষতি নেই। আমি আছি সেই আগের পুরনো মিতুতেই। কার কি যায় আসে আমি আমার মতই ছিলাম আছি থাকব ইনশাআল্লাহ।

হ্যাঁ আমি এখনো পুরনো চিঠি পড়ি...যা একান্ত ই আমার...তুমি পড় না কারন তুমি রাখতে জানো না...আমি জানি, আমি মানি যদিও তোমার প্রাপ্য তুমি পেয়েছো আমার টা থাক আমার গহীনে...ভালবাসা হারিয়ে যায় ঠিক কিন্তু বেঁচে থাকে মনে মননে নিঃশ্বাসে। তোমার জন্মদিন শুভ হোক। পৃথিবী সমস্ত সুখ, আনন্দ, ভালবাসা হোক শুধুই তোমার। পৃথিবী সমস্ত দুঃখ কষ্ট অশান্তি হোক শুধুই আমার। এক আকাশ শুভেচ্ছা, শুভকামনা রইল তোমার জন্য,
শুভ হোক তোমার জন্মদিন। তোমার মিতু কখনো হারায়নি, হারাবেনা তবে একদিন নিরুদ্দেশ হবে।”
২০০১ সালে প্রকাশিত তার প্রথম সঙ্গীত এ্যালবাম ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া প্রথম গান ‘আমারই ভাগ্যে তোমারই নাম’ (চলচ্চিত্র: রাজা নাম্বার ওয়ান, মুক্তি প্রাপ্ত: ১৯৯৮ সাল)। ২০১৯ সালে ‘গহীনের গান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আসিফ এখন অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ
