ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করার সময় বাম জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ১০/১৫ জন নেতাকর্মী ও সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চার পুলিশ সদস্যকে ভর্তি করা হয়েছে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে। সংঘর্ষের ঘটনায় ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানিসহ ৩৩ জন কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ধ্যায় ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ৩২ জনকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর থেকে মিছিল শুরু করে মুক্তাঙ্গনের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। সেখান থেকে মিছিলটি মতিঝিলের শাপলা চত্বরের দিকে যায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি পরিচালিত হয়।
এ সময় সংঘর্ষে পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক, মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার (এসি-প্যাট্রল), মতিঝিল থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও একজন কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়ে রাজারবাগ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকি তিন পুলিশ সদস্য খিলগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি), মতিঝিল জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ও এক কনস্টেবল প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মিন্টু কুমার বলেন, বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে শাপলা চত্বর এলে পুলিশ সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর আক্রমণ শুরু করে। এতে আমাদের বেশ কয়েক জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন দাবি করেন, সংগঠনের ১০/১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আরো পাঁচজন কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।
