ইত্তেফাক ডেস্ক
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবসে শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করল জাতি। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
বরিশাল : ২৫ মার্চ নিহতদের স্মরণে একযোগে রাত ৯টায় সরকরি, বেসরকারি, আবাসিক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সড়কের সব বৈদ্যুতিক আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাত ১১টায় ১০ মিনিটে ওয়াপদা কলোনীর টর্চার সেল ও বধ্যভূমিতে মোমবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে গণহত্যায় শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুুল্লাহর নেতৃত্বে হাজার হাজার নারী-পুরুষ। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বরিশাল পুলিশ লাইনস মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হয়। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন স্বাধীনতা স্তম্ভ ও পরে নগরের ৩০ গোডাউনের বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
চট্টগ্রাম : রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরের মানুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনাসভা, কুচকাওয়াজসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগরী আওয়ামী লীগ, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনসমূহ এ উপলক্ষ্যে পৃথক পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। ২৫ মার্চ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে স্বাধীনতা দিবসের সূচনালগ্ন থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হয়। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী। এরপর তিনি চসিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
খুলনা :শুক্রবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরীর গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও প্রত্যুষে খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলনা জেলা ও মহানগর কমান্ড, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, কেসিসির মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
রাজশাহী :শুক্রবার সকালে রাজশাহী কোর্ট চত্বর শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ প্রদর্শন ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট :শুক্রবার ভোর ৬টায় বীর শহিদদের প্রতি সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনানে বাস্তবায়ন পরিষদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে সিলেটে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানায় জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।
ময়মনসিংহ :শুক্রবার ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে ৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের সূচনা করা হয়। জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মনিরা সুলতানা মনি। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ ময়দানে শিশু-কিশোরদের শারীরিক কসরতের আয়োজন করা হয়। টাউন হল অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে বেলা বারোটায় মুক্তিযোদ্ধা শহিদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
পিরোজপুর : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের ভাগীরথী চত্বরের শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের অনুষ্ঠানমালার সূচনা করা হয়। সকাল ৬টায় শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার হায়াতুর ইসলাম খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কুমিল্লা :নগর উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
লক্ষ্মীপুর : শুক্রবার ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিফলকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
নাটোর : স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে নাটোরে মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার বেলা ১১টায় স্থানীয় কানাইখালী পুরোনো স্টেডিয়ামে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ। প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সূচনা হয়।
নেত্রকোনা : শুক্রবার ভোর ৬টায় ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। পরে শহিদ বেদিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা জজশিপ, জেলা পরিষদ, পৌর পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে পুষ্প স্তবক অর্পণ করা হয়।
নোয়াখালী : শুক্রবার ভোরে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে পুষ্পস্তক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন, সরকারি-আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধারা এবং আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ সামজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জয়পুরহাট :শুক্রবার ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে ৫০ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শহরের শহিদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা করা হয়।
রাজবাড়ী :জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার, মুুুুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
সিরাজগঞ্জ :৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সূচনা হয়। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণ, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
পাবনা :সকালে স্বাধীনতা চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা অর্পণ করেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার খসরু পারভেজ ও রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) বিজন কুমার ব্রহ্ম। এরপর শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মৌলভীবাজার :শুক্রবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মরণে মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ ও গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
এছাড়া পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ, টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও মির্জাপুর, সাতক্ষীরার কলারোয়া ও তালা, জয়পুরহাটের কালাই, নওগাঁর রাণীনগর, ফরিদপুরের সদরপুর ও মধুখালী, বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও আগৈলঝাড়া, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, মেহেরপুরের গাংনী, পাবনার ঈশ্বরদী, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ ও তাড়াশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, কুমিল্লার তিতাস, হোমনা ও নাঙ্গলকোট, দিনাজপুরের কাহারোল ও ঘোড়াঘাট, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, হোসেনপুর ও নিকলী, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, যশোরের ঝিকরগাছা, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া, ত্রিশাল ও নান্দাইল, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, বরগুনার বামনা, নেত্রকোনার পূর্বধলা, নীলফামারীর ডোমারে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে।
