স্পোর্টস রিপোর্টার
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয়ের খাতা খোলার মিশন অপূর্ণই রয়ে গেল। ঘরের মাঠে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ১৬ ম্যাচ জিতল ব্ল্যাক ক্যাপসরা। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়াল ২৯।
ডানেডিনের বিপর্যস্ত পারফরম্যান্সের পর ক্রাইস্টচার্চে দারুণ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ দল। ক্যাচ মিসের ভুলে জয়ের সুযোগ হারিয়েছিল তামিম ইকবালের দল। গতকাল ওয়েলিংটনে তৃতীয় ওয়ানডেতে আবারও সেই নতজানু পারফরম্যান্স। ক্যাচ মিস, মিস ফিল্ডিংয়ের দৃষ্টিকটু সব দৃশ্যে সয়লাব বাংলাদেশের ফিল্ডিং। তাতেই রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়েছিল তামিম বাহিনী। সেই চাপে চিড়েচ্যাপ্টা ব্যাটিং লাইন। অসহায় আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই ওয়ানডে সিরিজ শেষ করেছে বাংলাদেশ।
গতকাল ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ড ১৬৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। ৩-০ তে ওয়ানডে সিরিজটা জিতে নিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। আগামীকাল তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-২০ তে আবারও মুখোমুখি হবে দুই দল। হ্যামিল্টনে ম্যাচ শুরু হবে সকাল ৭টায়।
ম্যাচে সহজ তিনটি ক্যাচ ফেলেছে বাংলাদেশ। দুর্ভাগা তাসকিনের বলেই পড়েছে দুটি ক্যাচ। অষ্টম ওভারে নিকোলসের ক্যাচ ফেলেন উইকেটকিপার মুশফিক। ১১তম ওভারে রস টেলরকে জীবন দেন মুস্তাফিজ। ৪৫তম ওভারে মাহমুদউল্লাহ ড্যারেল মিচেলের ক্যাচ ফেলেন। যদিও বেসিন রিজার্ভে শুরুটা খারাপ ছিল না। তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সঙ্গে রুবেল জ্বলে উঠলে ৫৭ রানে ৩ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। দলীয় ১২০ রানে অধিনায়ক লাথামও সৌম্যর শিকার হন। পঞ্চম উইকেটে ১৫৯ ডেভন কনওয়ে ও ড্যারেল মিচেলের জুটিই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে। নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে ৩১৮ রান করে। দুই জনই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন।
কনওয়ে ১১০ বলে ১৭ চারে ১২৬ রান করে মুস্তাফিজের শিকার হন। ইনিংসের শেষ বলে দুই রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিচেল। সেখানেও আছে মুশফিকের বদন্যতা। রানআউটের সুযোগ নষ্ট করেন তিনি এক হাতে বল ধরতে গিয়ে। মিচেল ৯২ বলে অপরাজিত ১০০ রান (৯ চার, ২ ছয়) করেন। বাংলাদেশের রুবেল ৩টি উইকেট নেন।
রুগ্ন ফিল্ডিংয়ের পরই হতোদ্যম হয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। লড়াইয়ের তৃষ্ণাই দেখা গেল না ব্যাটিংয়ে। ৪২.৪ ওভারে ১৫৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। মাহমুদউল্লাহর ২৩তম হাফ সেঞ্চুরিতে হারের ব্যবধান কমেছিল। তিনি অপরাজিত ৭৬ রান করেন। দুই অঙ্কের ঘর পার হওয়া বাকি দুই ব্যাটসম্যান হলেন লিটন (২১) ও মুশফিক (২১)। নিউজিল্যান্ডের নিশাম ২৭ রানে ৫টি, হেনরি ২৭ রানে ৪টি উইকেট নেন। কনওয়ে ম্যাচ ও সিরিজ সেরার পুরস্কার পান।
স্কোরকার্ড
টস :নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ড ইনিংস রান বল চার ছয়
গাপটিল ক লিটন ব রুবেল ২৬ ২৮ ২ ০
নিকোলস ক লিটন ব তাসকিন ১৮ ২১ ২ ০
কনওয়ে ক আফিফ (দ্বাদশ) ব মুস্তাফিজ ১২৬ ১১০ ১৭ ০
টেলর ক মুশফিক ব রুবেল ৭ ১৪ ১ ০
লাথাম ক মিরাজ ব সৌম্য ১৮ ৩৩ ১ ০
ড্যারেল মিচেল অপরাজিত ১০০ ৯২ ৯ ২
নিশাম ক লিটন ব রুবেল ৪ ৪ ০ ০
স্যান্টনার অপরাজিত ৩ ১ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ১, লেবা ২, নো ৩, ও ১৩) ১৬
মোট ৫০ ওভারে ৩১৮/৬
উইকেট পতন : ১-৪৪ (নিকোলস), ২-৪৯ (গাপটিল), ৩-৫৭ (রস টেলর), ৪-১২০ (লাথাম), ৫-২৭৯ (কনওয়ে), ৬-২৯০ (নিশাম)।
বাংলাদেশ বোলিং : মুস্তাফিজ ১০-০-৮৭-১, তাসকিন ১০-১-৫২-১, রুবেল ১০-১-৭০-৩, মেহেদী হাসান ৭-০-৪৬-০, মিরাজ ৫-০-২৩-০, সৌম্য ৮-০-৩৭-১।
বাংলাদেশ ইনিংস রান বল চার ছয়
তামিম ক লাথাম ব হেনরি ১ ৯ ০ ০
লিটন দাস ক বোল্ট ব হেনরি ২১ ২১ ৩ ০
সৌম্য ক বোল্ট ব হেনরি ১ ৬ ০ ০
মিঠুন ক স্যান্টনার ব জেমিসন ৬ ৩৯ ০ ০
মুশফিক ক এন্ড ব নিশাম ২১ ৪৪ ১ ০
মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৭৬ ৭৩ ৬ ৪
মিরাজ ক কনওয়ে ব নিশাম ০ ২ ০ ০
মেহেদী হাসান ক লাথাম ব নিশাম ৩ ৮ ০ ১
তাসকিন ক কনওয়ে ব হেনরি ৯ ২৪ ২ ০
রুবেল ক লাথাম ব নিশাম ৪ ২৮ ০ ০
মুস্তাফিজ এলবিডব্লিউ নিশাম ০ ৩ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ১, নো বো ১, ও ১০) ১২
মোট ৪২.৪ ওভারে ১৫৪
উইকেট পতন : ১-১০ (তামিম), ২-১৮ (সৌম্য), ৩-২৬ (লিটন), ৪-৪৮ (মিঠুন), ৫-৭৭ (মুশফিক), ৬-৭৭ (মিরাজ), ৭-৮২ (মেহেদী হাসান), ৮-১০২ (তাসকিন), ৯-১৫৪ (রুবেল), ১০-১৫৪ (মুস্তাফিজ)।
নিউজিল্যান্ড বোলিং : হেনরি ১০-২-২৭-৪, বোল্ট ১০-১-৩৭-০, জেমিসন ৮-০-৩০-১, নিশাম ৭.৪-১-২৭-৫, ড্যারেল মিচেল ৪-০-২৫-০, স্যান্টনার ৩-০-৭-০।
ফল : নিউজিল্যান্ড ১৬৪ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা : ডেভন কনওয়ে (নিউজিল্যান্ড)
সিরিজ সেরা : ডেভন কনওয়ে (নিউজিল্যান্ড)
সিরিজ : নিউজিল্যান্ড ৩-০ তে জয়ী
