ভাঙনের হুমকিতে তিন গ্রাম

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২১, ২১:২১

সুগন্ধা থেকে বালু উত্তোলন

মো. শফিউল ইসলাম সৈকত, ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী তীরবর্তী দিয়াকুল, কিস্তাকাঠি ও দেউরি গ্রামে অসময়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে কিস্তাকাঠি সাইক্লোন শেল্টার, বসতবাড়ি ও আবাদি জমি। ইতিমধ্যেই নদীতে ভেঙে গেছে কিস্তাকাঠি মসজিদ ও খেয়াঘাট, দিয়াকুলের মসজিদ, মাদ্রাসা ও খেয়াঘাট। স্থানীয় বাসিন্দারা ভাঙনের জন্য নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে দায়ী করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানের কারণে দিনের বেলায় বন্ধ থাকলেও রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ভাঙ্গন এলাকাসংলগ্ন নদী থেকে বালু উঠানো হচ্ছে।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে দিয়াকুল ট্রলারঘাটে গিয়ে দেখা যায়, রাতে অবৈধভাবে বালু ভর্তি করা ১টি ট্রলার থেকে ব্রিজের সঙ্গে পাইপ লাগিয়ে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় ট্রলারের কাছে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এর আগে ২ মার্চ সুগন্ধা নদীসংলগ্ন এসব গ্রামে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙনের আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছেন না তারা। কিস্তাকাঠি গ্রামের কৃষক আসলাম হাওলাদার ও নদীতে ভেঙে যাওয়া একটি মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলাম জানান, ড্রেজার মেশিনে নদীর বালু টান দেওয়ায় এসব গ্রামের পাড়ের মাটি নেমে যায়। এ সময় তীরের জায়গা-জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের কারণে কিস্তাকাঠি গ্রামের খেয়াঘাট ও মসজিদটি বিকল্প স্থানে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর উদ্যোগে অস্থায়ী মসজিদ ও ঘাট নির্মাণ করা হয়।

দিয়াকুল গ্রামের কৃষক মো. ছালাম, চাঁন মিয়াসহ কয়েক জন বাসিন্দা জানান, আমাদের একমাত্র মসজিদের দেওয়াল ভেঙে নদীতে পরেছে। মাদ্রাসা একবার ভেঙে নদীতে বিলীন হওয়ায় আবার অস্তায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। খেয়াঘাটের বিশাল ব্রিজটি যে কোনো সময় ভেঙে গ্রামবাসীর চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পরেছে। গ্রামবাসী আরো জানায়, রাত নামলেই ৩০ থেকে ৪০টি ড্রেজার লাইন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় ভোর পর্যন্ত।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শাহিন আকন বলেন, আগে দিনে বালু উত্তোলন করা হতো, এখন রাতে হচ্ছে। আমরা তো যেখানে যখন দরকার বলি কিন্তু সব ম্যানেজ করে এরা এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাই নদীভাঙন থামছেই না। আমার বাড়িও নদীর কাছাকাছি চলে এসেছে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ইতিপূর্বে রাতে অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে যাওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যায়। এসব বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।