টঙ্গীতে অসনীয় বায়ুদূষণ বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২১, ২২:১৬

সরকারি নির্দেশনা না মেনে নির্মাণকাজ

কাজী রফিক, টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা

টঙ্গীতে বছর জুড়েই চলছে যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং বিআইটি মেঘা প্রকল্পের কাজ। এ সব উন্নয়ন কাজে পরিবেশ যাতে বিনষ্ট না হয় তার জন্য সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা তোয়াক্কা করছে না সিটি করপোরেশন ও বিআইটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া শিল্পকারখানা ও ইটভাটার ধোঁয়াসহ ফিটনেসবিহীন গাড়ির কালো ধোঁয়ার আগ্রাসনে বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ বায়ুদূষণ এখন এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক তপন কান্তি সরকার বলেন, প্রতিদিনই হাঁচি-কাশি নিয়ে রোগী আসছে। অ্যাজমা-অ্যালার্জি, সাইনোসাইটিস, গলাব্যথা, শ্বাসতন্ত্রে ক্ষতসহ নানা ধরনের রোগী আসছে। বায়ুদূষণ এর বড় কারণ বলে তিনি মনে করেন।

টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কে গত তিন-চার বছর ধরে চলছে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ। এ কাজের জন্য চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। এতে ব্যাপক ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। ধুলাবালির কারণে ঐ পথে চলাচলকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বিআরটি প্রকল্পের কাজের সময় সড়কে পানি ছিটানোর কথা থাকলেও তা ছিটানো হচ্ছে না। এতে করে ২০ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করার পর ধুলায় একাকার হতে হয়।

ঢাকা-৫ ময়মনসিংহ মহাসড়ক, শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামের সামনে, টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা, বোর্ডবাজার এলাকাসহ মত্স্য বীজ উত্পাদন খামারের সামনেও চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। আরেকটু সামনে কুনিয়া বড়বাড়ি থেকে মালেকের বাড়ি, চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত একই অবস্থা। রাস্তার পাশে দোকানপাট, রিকশা যাত্রী ও পায়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বেশির ভাগ শিল্পকারখানা থেকে মারাত্মকভাবে পরিবেশ ও বায়ুদূষণ হচ্ছে। পথচারী জাহিদ হাসান জানান, ‘শুনেছি কাজের সময় পানি দেওয়ার কথা কিন্তু এক দিনও পানি দিতে দেখা যায় নাই। রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার অংশে ধুলার জন্য বের হওয়া যায় না।’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) গাজীপুর আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসান খান বলেন, ‘ইটভাটার যে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা, অনেকেই তা করছেন না। ফলে বাতাসে কার্বন মিশে বায়ুদূষণ ঘটছে।’

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুস সালাম সরকার বলেন, সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাসমান ক্ষতিকর বস্তুকণা এখানকার বাতাসে বিরাজ করছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে বায়ুদূষণ সহনীয় মাত্রায় আনা সম্ভব। নিয়ন্ত্রণহীন খোঁড়াখুঁড়ি ও অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজ বন্ধের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি করলে ফল পাওয়া যাবে।’