ইত্তেফাক রিপোর্ট
শুক্রবার রাতে রাজধানীর মুগদায় কর্মচারী ও ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে এক দোকান মালিক খুন হয়েছেন। নিহতের নাম জজ মিয়া ওরফে আল আমিন (২৫)। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ওলি উল্লাহ মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দোকান কর্মচারী জুবায়ের ও নিহতের আপন ছোট ভাই শাকিলকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ বলছে, নিহতের গলা থেকে ঘাড় পর্যন্ত এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা জানান, গত শুক্রবার রাত সোয়া ১২টার দিকে উত্তর মুগদার সরদার লেনের বাসা থেকে জজ মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গলায়, বুকে অন্তত ১৬/১৭ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ঘটনার পর কর্মচারী জোবায়ের ও ভাই শাকিল পালানোর চেষ্টা করলে বাসার নিচে তাদের আটক করে এলাকাবাসী গণপিটুনি দেয়। এক জনকে হাসপাতালে চিকিত্সাও দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রাথমিকভাবে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
নিহতের চাচাতো ভাই রেদওয়ান আহমেদ জানান, মুগদা চৌরাস্তায় জজ মিয়ার লন্ড্রি, বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান ছিল। জুবায়েরের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে নিজ গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় ছোট ভাইয়ের মতো তাকে দেখতেন জজ মিয়া। কয়েক দিন আগে বিকাশে ভুল নম্বরে টাকা পাঠানোকে কেন্দ্র করে জজ মিয়ার ছোট ভাই মো. হুসাইন রাগারাগি করে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে জজ মিয়া দোকান বন্ধ করে বাসায় আসেন এবং বাথরুমে যান। জজ মিয়ার সঙ্গে একই বাসায় থাকতেন জুবায়ের। রাত সোয়া ১১টার দিকে জুবায়ের এসে দরজা নক করে। দরজা খুলে জজ মিয়ার স্ত্রী কল্পনা আক্তার দেখেন জুবায়ের ও আরেক জন মুখে মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে আছে। কল্পনা তখন জানতে চান জুবায়েরের পেছনে কে দাঁড়িয়ে। এ সময় জজ মিয়ার ছোট ভাই হুসাইনও এসে বলেন ‘ও কে’। সঙ্গে সঙ্গে শাকিল ছুরি দিয়ে হুসাইনের হাতে কোপ দিলে কল্পনার চিত্কারে জজ মিয়া বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন জজ মিয়ার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করে জুবায়ের ও শাকিল।
