রাজশাহীর কাটাখালিতে শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। রংপুরের পীরগঞ্জের চার ইউনিয়নে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গতকাল শনিবার সকালে পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় রাজারামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের স্বজনরা কবর খোঁড়ায় ব্যস্ত। কেউ কাটছেন বাঁশ। ঘরে ঘরে চলছে কোরআন তিলাওয়াত। রাতভর আহাজারি করতে করতে এখন তারা শোক জানানোর ভাষাই যেন হারিয়ে ফেলেছেন। লাশের অপেক্ষা করছেন তারা।
গত শুক্রবার রাজশাহীর কাটাখালীতে হানিফ পরিবহনের বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনে পুড়ে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১৭ জন নিহত হয়েছেন। তারা পীরগঞ্জ থেকে মাইক্রোবাসে রাজশাহী ঘুরতে গিয়েছিলেন।
পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র জানান, দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাস থেকে ১১ যাত্রীর পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরো দগ্ধ ছয় জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে তাদের মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সক। মাইক্রোবাস থেকে উদ্ধার ১১ মরদেহের কাউকে চেনা যাচ্ছে না। তবে এর মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ, চার জন নারী এবং দুই জন শিশু বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ। অন্যদিকে রামেক হাসপাতালে মারা যাওয়া ছয় জনের মধ্যে দুই জন পুরুষ, দুই জন নারী ও দুই শিশু। মাইক্রোবাসে থাকা সবার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।
বড়রাজা রামপুর গ্রামের নিহত সালাহউদ্দিনের চাচাতো ভাই নুরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ভোরে স্ত্রী-তিন সন্তান ও বড় শ্যালিকাকে নিয়ে মাইক্রোবাসে রাজশাহীতে ঘুরতে যান সালাহউদ্দিন। ঐ মাইক্রোবাসে আরো বেশ কয়েক জন যাত্রী ছিল। তারা সবাই মারা গেছেন।
বড় মজিদপুরের নিহত পার্টস ব্যবসায়ী ফুল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের উপার্জনক্ষম ফুল মিয়াকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। ফুল মিয়ার বৃদ্ধা মা সাহিদা খাতুনসহ পরিবারের লোকজনের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ফুল মিয়ার ছোট ভাই সুজন মণ্ডল বলেন, কোনো দিন ভাবিনি একসঙ্গে পরিবারের পাঁচ জনকে হারাবো। বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে আমাদের পরিবারে উপার্জনক্ষম আর কেউ থাকল না। আগে বাবাকে হারিয়েছি। আজ ভাইকে হারিয়ে যেন সবকিছুই হারালাম।
পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের মরদেহ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এদের মধ্যে ১১ জনের মরদেহ পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। নিহতদের পরিবার থেকে অনেকেই রাজশাহীতে মরদেহ গ্রহণ করতে গিয়েছেন। কিন্তু ডিএনএ নমুনা নিয়ে মরদেহ শনাক্ত করাসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে দেরি হচ্ছে। এসব মরদেহ পীরগঞ্জে কখন আনা হবে, তা এখন বলা যাচ্ছে না।
