বইমেলা এবছর তরুণদের বইয়ে ছেয়ে গেছে। প্রকাশকরাও নতুন লেখক যারা ভালো লিখছেন তাদের বই ছাপার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তরুণ সাহিত্যিক সাদাত হোসাইনের বই জনপ্রিয়তা পাওয়ায় সব প্রকাশকরাই তরুণ লেখকদের ভালো লেখা ছাপানোর বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্বকৃত নোমান, মোজাফফর হোসেন, পিয়াস মজিদ, মৌরি মরিয়মও পাঠকের নজর কেড়েছেন। সাদাত হোসাইন ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের গন্ডি ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের পাঠকদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। অবসর, সময়, কাকলী, তাম্রলিপিসহ অপেক্ষাকৃত নতুন প্রকাশকরাও তরুণ লেখকদের বই প্রকাশ করছে। প্রকাশকরা জানাচ্ছেন, এই তরুণ লেখকদের বইও খুব ভালোভাবেই গ্রহণ করছেন পাঠকরা। তবে পাশাপাশি ক্লাসিক সাহিত্যের বিক্রি সবসময়ই ভালো। এবছর ইমদাদুল হক মিলনের এখন পর্যন্ত নতুন কোনো উপন্যাস আসেনি, উপন্যাস আসেনি আনিসুল হকেরও। মুহম্মদ জাফর ইকবালের দুটি সায়েন্স ফিকশন এসেছে। তবে বেশ কয়েকটি গল্প ও উপন্যাস এসেছে হরিশংকর জলদাসের। এদিকে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সমগ্র নিয়ে এসেছে মাওলা ব্রাদার্স। শামসুর রাহমানের কবিতা সমগ্র পাওয়া যায় অনন্যা প্রকাশনীতে, সৈয়দ শামসুল হকের রচনাবলী পাওয়া যায় চারুলিপিতে। পাঠক সমাবেশে রয়েছে রবীন্দ্র রচনাবলী। আর হুমায়ূন আহমেদ আজও আছেন পাঠকের মনের মণিকোঠায়। অন্যপ্রকাশের স্টল থেকে জানা গেল, হুমায়ূনের বই সবসময়েই ভালো বিক্রি হয়।
মূলমঞ্চে অনুষ্ঠান :বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী :বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জালাল ফিরোজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাব্বির আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন মো. মইনুল কবির। এদিকে, গতকাল লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন সাইম রানা, আহমাদ মোস্তফা কামাল এবং সাইফুল ভূঁইয়া।
নতুন বই :বইমেলায় গত ১০ দিনে মোট বই প্রকাশিত হয়েছে ১ হাজার ২৫৯টি। গতকাল নতুন বই এসেছে ১৭৫টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে-আগামী প্রকাশনীর হাসনাত আবদুল হাই ও সিরাজুল ইসলাম মুনির সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধু শতবর্ষে শতগল্প’, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, মোনায়েম সরকার ও সৈয়দ জাহিদ হাসান সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শত প্রবন্ধ’, ময়ূরপঙ্খি এনেছে মঞ্জু সরকারের ‘দাদুর হাতে জাদুর লাঠি’, কথাপ্রকাশ এনেছে মুস্তাফিজ শফি সম্পাদিত ‘ভাষণ অথবা একটি কবিতার গল্প’, হাওলাদার প্রকাশনী এনেছে জিয়া হাশানের ‘সময়ের দূতাবাস’, পাঞ্জেরী পাবলিকশেন্স এনেছে মোজাফফর হোসেনের ‘মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁ’, শিশু গ্রন্থকুটির এনেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর ‘তিনে নেত্র চারে বেদ’, পাঠক সমাবেশ এনেছে হরিশংকর জলদাসের ‘প্রান্তজনের গল্প’, মূর্ধন্য থেকে ভূপেন হাজারিকার ‘আমি এক যাযাবর’, সরকার আমিনের ‘মৃদ্যু বেদনার হাসপাতালে’, বিভাস এনেছে খালেক বিন জয়েনউদদীন সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধু এবং রক্তাক্ত বাংলা-২’, সমগ্র প্রকাশন এনেছে ইমতিয়ার শামীমের ‘ডানাকাটা হিমের ভেতর’ প্রভৃতি।
