ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদ করায় হেফাজত সমর্থক মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে গতকাল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া পুলিশসহ আহত হয়েছে অর্ধশত। আগের দিন শুক্রবার একই ইস্যুতে জেলায় সংঘর্ষ-সহিংসতায় এক তরুণ নিহত হন। এদিকে গতকাল দুপুরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে হেফাজত সমর্থকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, বিকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নন্দনপুরে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ-বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েক জন গুরুতর আহত হন। এখানে চার জন মারা যান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক রানা নুরুস শামস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আমরা পাঁচ জনকে মৃত ঘোষণা করেছি। আহতদের সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিত্সা দেওয়া হয়। নিহতরা হলেন—নন্দনপুর হারিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে ওয়ার্কশপের দোকানি জুরু আলম (৩৫), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাবিড় মিয়ার ছেলে শ্রমিক বাদল মিয়া (২৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়া বারিউড়া মৈন্দ গ্রামের জুরু আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২২) এবং বুধলের আলী আহমদের ছেলে প্লাম্বার শ্রমিক কাউসার (২৫)। বাকি এক জনের নাম জানা যায়নি।
এদিকে বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টিএ রোড দিয়ে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার এলাকা অতিক্রম করার সময় পেছন দিক থেকে মাদ্রাসার কয়েক জন ছাত্রকে ধাওয়া করে। এ সময় ছাত্ররাও পালটা ধাওয়া দেয়। তখন অর্ধশত ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কিছুক্ষণ পর মাদ্রাসাকে রক্ষার জন্য কান্দিপাড়া মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেওয়া হলে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে আসে। তখন আওয়ামী লীগ কর্মীরা পিছু হটে। ক্ষুব্ধ লোকজন প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় একজন গুলিতে মারা যান। রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাদ্রাসা এলাকায় থেমে থেমে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষ চলছিল।
পুলিশ ক্যাম্পে হামলা
অন্যদিকে সরাইল উপজেলায় স্থানীয়দের বের করা বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়। এতে ক্যাম্পে থাকা ২৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যদের নাম জানা যায়নি। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অন্তত ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১৫ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আলী আহমেদের ছেলে কাউসার মিয়া, সাইদ মিয়ার ছেলে নুরুল আমিন (৩৫), আব্দুল সাত্তারের ছেলে বাছির মিয়া (২৮), আবদুল হোসেনের ছেলে ছাদের মিয়াকে (৩৫) হাসপাতালে আনা হয়। সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিক্ষোভ মিছিল থেকে হঠাত্ করে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
আগের দিনের ঘটনায় তিন মামলা
শুক্রবারের তাণ্ডবের ঘটনায় গতকাল বিকাল পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে। ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। সংঘর্ষে নিহত আশিকের (২০) লাশ শুক্রবার রাতেই পৌর এলাকার দাতিয়ারা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। নিহত আশিকের বাবা সাগর মিয়া ও মা রহিমা আক্তার জানান, আশিক কাউতলী এলাকায় ওয়ার্কশপে কাজ করত। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাউতলী এলাকায় আশিক গুলিবিদ্ধ হয়।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্যানেল বোর্ড ভেঙে ফেলায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেন চলাচল শুক্রবার রাত ১২টার পর পুনরায় শুরু হয়। তবে শনিবার বিকাল থেকে সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয় বলে স্টেশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, শুক্রবার জাতির পিতার প্রতিকৃতি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে হামলার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন বলেন, ঐদিন সার্কিট হাউজের সামনে রাখা ডিসি পুলের ৯টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভাঙ্গা থানায় হামলা
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, শনিবার দুপুরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ব্যানারে উপজেলা সদরে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে পুলিশের বাধার কারণে পুলিশ ও হেফাজতের কর্মীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন। এ সময় হেফাজতের হাজার হাজার নেতাকর্মী ভাঙ্গা থানা ঘেরাও করে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। তারা একটি পুলিশ ভ্যান ও দুটি মোটরসাইকেলসহ সার্কেল অফিস, ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়সহ থানায় প্রবেশের মেইন গেট ভেঙে ফেলেন। পুলিশ ৪৫ রাউন্ড গুলি ছুড়েও হেফাজতের কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পারেনি।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান জানান, দুপুরে জোহরের নামাজ পড়ে হেফাজতের কর্মীদের একটি মিছিল বিশ্বরোড চৌরাস্তা থেকে এসে ভাঙ্গা বাজারে প্রবেশ করে। এ কারণে হাইওয়েতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে হেফাজতের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। তারা পুলিশের ওপর ইট নিক্ষেপসহ সরাসরি থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালান। থানার অভ্যন্তরে তারা বেশ ক্ষতি সাধন করেন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভাঙ্গা ঈদগাহ মাদ্রাসার মোহতামিম তল্লা হুজুরকে থানায় নিয়ে গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত, সিসি টিভির ফুটেজ দেখে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
হাটহাজারী থমথমে
চট্টগ্রাম অফিস ও হাটহাজারী সংবাদদাতা জানান, হাটহাজারীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। হরতাল প্রত্যাহার নিয়ে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। মাদ্রাসার সামনে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা সড়কে ইট ও বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছেন। প্রধান সড়কে ব্যারিকেডের কারণে খাগড়াছড়ি, রামগড়, নাজিরহাট ও ফটিকছড়ি সড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে গত শুক্রবার থেকে এসব এলাকাবাসী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। হরতালের সমর্থনে নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম। পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদ করায় শুক্রবার এখানে হেফাজতকর্মী-পুলিশের সংঘর্ষে চার জন নিহত হন।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও যানবাহন চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয়রা জানান, খাগড়াছড়ি ও ফটিকছড়ি এলাকার মানুষকে চট্টগ্রাম নগরীতে যেতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মানুষ দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছে। এসব সড়কে দূরপাল্লার যানবাহন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
গতকাল হাটহাজারী থানায় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও প্রশাসনের এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে হেফাজতের নেতা সোলায়মানকে ছেড়ে দেওয়া এবং চমেক হাসপাতালের মর্গে থাকা চারটি মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নিহত রবিউল, মেহরাজ ও জামিল হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ছাত্র এবং আবদুল্লাহ এলাকায় দর্জির কাজ করেন। হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী ইত্তেফাককে বলেন, ‘বৈঠকে মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু মরদেহ আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। হরতাল পালিত হবে।’
এদিকে গতকাল শনিবার নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
পটিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, রবিবার হেফাজতের ডাকা হরতাল সফল করতে চট্টগ্রামের পটিয়া সদরের আল জামিয়া আল ইসলামিয়া জমিরিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্ররা হাতে দেশি অস্ত্র, লাঠি ও মুখে জিহাদি স্লোগান দিয়ে গতকাল দুপুরে শোডাউন করেছে। মিছিলটিতে দুই সহস্রাধিক ছাত্র অংশ নেয়। এ সময় আশপাশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মিছিলকারীরা মোদি ও হাসিনাবিরোধী স্লোগান দেয়। মহাসড়কের পাশে টাঙানো বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এদিকে বিকেলে পটিয়া সদরে পালটা মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা যুবলীগ। এ সময় বক্তারা বলেন, হেফাজতের হরতালে কোনো অবস্থাতেই কওমি ছাত্রদের রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ালশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। শনিবার দুপুরে শহরের রাজবাড়ী সড়কে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ১০ নেতাকর্মী এবং এসআইসহ পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ যুবদল ও ছাত্রদলের তিন কর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) জাকির হাসান জানান, নেতাকর্মীরা পুলিশের একটি মিনি পিকআপ ভাঙচুর করেছেন। তাদের ইটের আঘাতে একজন এসআই ও দুই কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলা শহরে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জি কে গউছের ছেলে, ছোট ভাই, ভাতিজাসহ পাঁচ-সাত জনকে আটক করেছে। ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে ১৩২ রাউন্ড শটগানের গুলি, ২১ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ।
সিলেট অফিস জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল থেকে জামায়াত-শিবিরের ১৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের ১৩টি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
