পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী বলেছেন, ‘স্বর দিয়ে খোলা হাওয়ায় ছবি আঁকার নাম গান। সঙ্গীতে ভাব আসল। ভাবই সঙ্গীতে সঙ্গীতে পার্থক্য গড়ে দেয়। বাংলাদেশ সঙ্গীতের জন্য একটা রত্নখনি। এদেশে অনেক ভালো ভালো শিল্পী আছে। এদের বাঁচিয়ে রাখা দরকার। তানপুরা নিয়ে গলা না সাধলে সেই শিল্পী সরস্বতীর বাহন হতে পারবে না।’
রবিবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজনে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, শিল্পীরা যদি একটু দায়িত্ব নিয়ে পরিশ্রম করেন, তাহলে শুধু ভারত নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও ছাপিয়ে যাবে বাংলাদেশের শিল্পীরা।
যদি বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করে তবে বাংলাদেশে গান শেখাতে চান পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। তার কথায়, প্রথমে অনলাইনে ক্লাস করিয়ে সেখান থেকে ১০জন শিল্পী বেছে নিয়ে তাদের সময় নিয়ে তালিম দিলে সেখান থেকেই বড় শিল্পীর সৃষ্টি হবে। চাই শুধু অধ্যবসায় ও ভক্তি।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে নতুন রাগ বেঁধেছেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। ঢাকায় তা পরিবেশনও করেছেন। আর তার নাম দিয়েছেন রাগ ‘মৈত্রী’।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০/২৫ দিন আগে আমাকে এই নতুন রাগ বাঁধার অনুরোধ জানান। তার অনুরোধে এই নতুন রাগ ‘মৈত্রী’ আমি কম্পোজ করেছি। বাংলাদেশের জন্যই করা। যা দুই দেশের মানুষকে বন্ধুত্বের বার্তা পৌঁছে দেবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ রাগ। তবে এতে রাগ ‘আভোগী' ও সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁর রাগ ‘হেমন্ত’ এর গন্ধ আছে। বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতা দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ নিয়ে রচিত সংস্কৃত, হিন্দি ও বাংলা ভাষায় তিনটি নতুন গান এই রাগে পরিবেশন করা হয়েছে।
গানটির তিনটির মধ্যে সংস্কৃত গানটি রচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পৃথিবী বিখ্যাত দার্শনিক ড. অরিন্দম চক্রবর্তী, হিন্দি গানটি রচনা করেছেন সুস্মিতা বসু মজুমদার ও হিন্দি অধ্যাপক রবি বর্মণ। আর বাংলা গানটি রচনা করেছেন অজয় চক্রবর্তীর শিষ্য সুগায়ক অনল চ্যাটার্জী। তিন গানেরই সংগীতায়োজন করেছেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী।
সংগীত গুরু অজয় চক্রবর্তীর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায়। তার বাবা মা দুজনেই বাংলাদেশের মানুষ ছিলেন। পরে চলে আসেন কলকাতায়। ২০১১ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করা হয় পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীকে। রাজ্য, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঘরানাকে বিদেশের মাটিতেও এক অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পী।
ইত্তেফাক/বিএএফ
