শিক্ষাক্ষেত্রে আবারও করোনার নেতিবাচক প্রভাব

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ২১:০৯

বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাস যেন আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ২০২০ সালের শুরু থেকেই করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশও। ২০২০ সালের ৮ মার্চ তারিখে বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এর পর থেকে এর সংক্রমণ ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে তা রোধকল্পে ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে সরকার দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। দেশের সকল হাটবাজার, অফিস-আদালতের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও, যা ইতিমধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। লেখাপড়া থেকে ছিটকে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর আগামী ৩০ মার্চ, ২০২১-এ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শিক্ষক, কর্মচারী, ছাত্রছাত্রী সকলেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। কিন্তু আবারও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তা স্থগিত করা হয়, যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আবারও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একটি জাতির সুষ্ঠু বিকাশে ‘শিক্ষা’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু গত বছর থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ থাকায় নেতিবাচক প্রভাবের সম্মুখীন হয়েছে শিক্ষার্থীরা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের পর ২০২০ সালে প্রথম দেশে অটো পাশ দেওয়া হয় সব শ্রেণিতে। অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম চললেও সশরীরে পাঠদান সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে ছাত্রছাত্রীরা, শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের সুষ্ঠু বিকাশ সম্পন্ন হয়নি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হওয়ায় শিগিগরই এই শিক্ষাক্ষেত্রের পিছিয়ে পড়াটা কাটিয়ে উঠতে কিছুদিন আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু আবারও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউন দেওয়া শুরু হয়েছে। এই ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা থেকে রক্ষা পেতে নির্ধারিত তারিখে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না এবং করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু এই অনলাইন পাঠদানে সব শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারে না। এর কারণ হলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস, স্মার্টফোনের স্বল্পতা, ইন্টারনেটের ধীরগতি ইত্যাদি। যার ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না, নাকি আবারও অটো পাশ দেওয়া হবে তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায় আমাদের সবাইকে মাস্ক ব্যবহারসহ সব ধরনের সচেতনতা মেনে চলতে হবে। সরকারকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা কাটিয়ে উঠে দেশের অন্যান্য কার্যক্রমসহ শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা যায়।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়