সাত প্রকল্পের কাজ ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ২১:১৬

ধুনট পৌরসভা

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণসহ সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের এলাকা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখায় চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পৌরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধুনট পৌরসভার বাসিন্দাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নতুন সড়ক নির্মাণ, পুরাতন সড়ক সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ, কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং পৌর শিশুপার্কের সীমানা নির্মাণসহ সাতটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৬৭ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫২ টাকা। পৌর কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদাররা এসব প্রকল্পের কাজ ফেলে রাখায় পৌরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ধুনট পোস্ট অফিস থেকে হলহলিয়া নদী পর্যন্ত ৩০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ ও আর্সেনিক মুক্ত ১৪৬টি হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ লাখ টাকা ৯৪ হাজার ৬৯৮ টাকা। মেসার্স রুনা এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনের মধ্যে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পূর্ব ভরণশাহী জান্নাতুল মাওয়া কবরস্থান ও চর ধুনট জান্নাতুল ফেরদৌস কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং শিশুপার্কের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫০ টাকা। মেসার্স সুমাইয়া ট্রেডার্স নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ২০১৯ সালের ৯ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ঐ কাজের সময় ছিল ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাইপাস সড়ক থেকে মাটিকোড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত ৫২০ মিটার সড়ক সংস্কার এবং ধুনট-গোসাইবাড়ি সড়ক থেকে জিঞ্জিরতলা জামালের বাড়ি হয়ে বিসি সড়ক পর্যন্ত আরসিসি ৩৮৫ মিটার রাস্তা নির্মাণ। এতে ব্যয় ধরা হয় ৫৯ লাখ ৪৮ হাজার ৩০৪ টাকা। মেসার্স সুমাইয়া ট্রেডার্স নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ঐ কাজের সময় ছিল ২০২০ সালের ৬ জুন পর্যন্ত।

মেসার্স সুমাইয়া ট্রেডার্সের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার লাইসেন্সে ঠিকাদার মোমিন, সোহেল ও সাবেক কাউন্সিলর দয়াল চন্দ্র প্রকল্পের কাজ নিয়েছেন। কিন্তু তারা সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেননি। তাদের বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কাজ শেষ না করায় আমি কাজগুলো শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

মেসার্স রুনা এন্টারপ্রাইজের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা দুর্যোগের কারণে প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে। ধুনট পৌরসভার মেয়র এ জি এম বাদশাহ বলেন, পৌর এলাকায় সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার কারণে জনগণের কষ্ট হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।