ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুড়ছে হেফাজতের আগুনে, নিহত আরো ২

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ২২:৩৭

হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনকালে গতকাল রবিবার বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তৃতীয় দিনের মতো তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় জেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিস, আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও নেতাদের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিলে সংঘর্ষে  আলামিন (২০) ও আশিক (৩৫) নামের দুই জন নিহত হন। এ নিয়ে গত তিন দিনে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮। এছাড়া হরতালকারীরা সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভাঙচুর চালান। রেলসেতুতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় ঢাকার সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত শুক্রবার ঢাকা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ করেন হেফাজত সমর্থকরা। ঐদিন পুলিশের গুলিতে হাটহাজারিতে চার জন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জন মারা যান। এর প্রতিবাদে পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ হলে গুলিতে আরো পাঁচ জন নিহত হন। এই হতাহতের প্রতিবাদে গতকাল হরতাল আহ্বান করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

হরতাল চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ হেফাজত কর্মীরা। এতে দুই শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় বেশকিছু যানবাহন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে পুলিশ-হেফাজত-আওয়ামী লীগ ত্রিমুখী সংঘর্ষে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও মধুপুরের পীর আল্লামা আব্দুল হামিদ গুলিবিদ্ধ এবং সিরাজদিখান থানার ওসি এস এম জালালউদ্দিনসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজত-পুলিশ সংঘর্ষে শাকিল (৩০) নামে এক জন গুলিবিদ্ধ এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নোয়াখালীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে।  হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জে পুলিশের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পিকআপ ভাঙচুর করা হয়। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, হেফাজতের সশস্ত্র কর্মীরা সকাল ১১টার পর থেকে শহরের হালদারপাড়াস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর গাড়িসহ তিনটি মোটর সাইকেল, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, পৌরসভা ভবন, পৌরসভা গ্যারেজের তিনটি গাড়িতে, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা গণগ্রন্থাগার, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের বাসভবন ও তার শ্বশুরবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও  সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন শোভনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। শহরের শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত উন্নয়ন মেলার ৩২টি স্টল পুড়িয়ে দেয়।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, ব্যাংক এশিয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স, শহরের আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরের প্রতিমা, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভুঁইয়ার অফিস, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিমা মুকাই আলীর শহরের হালদারপাড়াস্থ বাসভবন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, দলিল লেখক সমিতি কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে হামলার সময় প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি গুরুতর আহত হন।

এদিকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের পৈরতলা, জেলা পুলিশ লাইনস, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল ১১টার দিকে শহরের পীরবাড়িতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘণ্টাব্যাপী পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। হামলা চলাকালীন শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখতে পাওয়া যায়নি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থানার মসজিদ থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে থানায় হামলা না চালানোর জন্য মাদ্রাসার ছাত্রদের অনুরোধ করা হয়।

এদিকে নিরাপত্তার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট, নোয়াখালীর পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে ভাঙচুর চালানো হয়। খুলে ফেলা হয় রেললাইনের নাট-বল্টু। লাইনের ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব ফেলে রাখে হরতালকারীরা। এছাড়া আশুগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাঝখানে ১৮ নম্বর রেলসেতুতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী সাংবাদিকদের জানান, নিরাপত্তার কারণে সকাল ৯টার পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সকাল ৮টার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকার পথে একটি মালবাহী ট্রেন আসে। এরপর ঢাকা থেকে সিলেটমুখী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন যায়। এরপর আর কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। অধিকাংশ ট্রেন বিভিন্নস্থানে আটকা পড়ে। সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের কাছাকাছি হামলার মুখে পড়লে ট্রেনটিকে ফিরিয়ে ভৈরব নিয়ে আসা হয়। এটি ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হতে পারে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ঐদিন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে সব ধরনের আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হরতালে সকাল থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৩০টি স্পটে টায়ার পুড়িয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে হরতাল সমর্থকরা। চলতে দেয়নি কোনো যানবাহন। চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় হেফাজত ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় হরতালকারীরা চারটি গাড়িতে আগুন দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ও শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশ, সংবাদিক ও হরতাল সমর্থকদের অন্তত ২০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে শাকিল নামে একজন ফার্নিচার মিস্ত্রি গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে  তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

দুপুরের পর জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হরতাল সমর্থনকারীরা অবরোধ করে রেখেছে। বর্তমানে এই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ। আমরা চেষ্টা করছি যাতে মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শহরের স্টেশন রোড, পুরান থানা, নিউমার্কেট প্রভৃতি এলাকায় হরতাল সমর্থক ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। দুপুরের দিকে হরতাল সমর্থকরা  জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু,  জাতীয় চার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এবং অফিসের চেয়ার-টেবিল, আসবাবপত্র ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয় এবং সারা শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রায় ৫০০ রাউন্ড গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বলে কিশোরগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. আবুবকর সিদ্দিক জানিয়েছেন। সংঘর্ষে ১২ পুলিশ ছাড়াও উভয় পক্ষের শতাধিক কর্মী আহত হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালে অন্তত ২৫ জন চিকিত্সা নেয়। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিকালে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ। সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আজমিরিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগড় যাত্রী ছাউনির নিকট পুলিশ ও হরতালকারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে সাত পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এসময় বিক্ষুব্ধ হেফাজত নেতাকর্মীরা টহল পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর করে। এছাড়া পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। আজমিরিগঞ্জ থানার ওসি নূরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহত এসআই পলওয়েল ও মুজিবুর রহমানকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে হরতাল সমর্থকরা চৌমুহনী চৌরাস্তায় অবস্থিত নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরাম অফিসে হামলা করে বেপরোয়া ভাঙচুর করে। এতে পাঁচ সাংবাদিক আহত হন। তারা ৭১ টিভির জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, বাংলা টিভির জেলা প্রতিনিধি ইমন ও ক্যামেরাম্যান এবং এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি তাজুল ইসলাম মানিককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তারা স্থানীয় এমপির গাড়িও আটক করে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ও সিরাজদিখান সংবাদদাতা জানান, সিরাজদিখানে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মধুপুর পীর হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ গুলিবিদ্ধ ও সিরাজদিখান থানার ওসি এস এম জালালউদ্দিনসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে ঐ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রবিবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বড় শিকারপুর ও শুলপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওসি জালাল উদ্দিন ও মধুপুরের পীর সাহেবকে চিকিত্সার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশে চিকিত্সা দেওয়া হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বেশকয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুরসহ দুইটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, নগরীর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় দুটি বিআরটিসি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হরতাল চলাকালে সকাল পৌনে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে টার্মিনালে রাখা একটি বাসের সম্পূর্ণ সিট এবং আরেকটি বাসের কয়েকটি সিট আগুনে পুড়ে যায়। এদিকে রাজশাহীতে হরতালের সমর্থনে কোথাও হেফাজতে ইসলামের কোনো মিছিল বা প্রকাশ্যে পিকেটিং লক্ষ্য করা যায়নি।

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় হেফাজত কর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে থানার ওসি শাহদাত হোসেনসহ ১০/১২ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ হেফাজত কর্মীদেরকে ছাত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এ সময় হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কর্মীরাও অংশ নেন বলে জানা গেছে।

সিলেটে অফিস জানায়, দুপুর ১২টার দিকে নগরীর বন্দরবাজারে হেফাজত ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এবং শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও তিন দফা ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্তত ১৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। এতে পাঁচ জন আহত হন। পুলিশ পাঁচ জনকে আটক করে। আহতদের মধ্যে দুজন ছাত্রলীগ কর্মী। বিকালে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশ করেন হেফাজত নেতাকর্মীরা।

বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, হরতালে পিকেটিংয়ের জের ধরে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের বৃহত্তর আমতৈল ও ধলিপাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে গতকাল আড়াই (সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা) ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগানের ৯০ রাউন্ড গুলি ও ৭ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। উপজেলার বিশ্বনাথ-লামাকাজী রোডের পিছের মুখ নামক স্থানে চলা এ সংঘর্ষে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা ও পুলিশের সাত সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ চার জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আট জনকে আটক করেছে।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, হরতালে চট্টগ্রামে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ছিল। সকাল থেকে নগরীতে যানবাহন চলাচল করেছে। তবে দূরপাল্লার যান কম চলায় যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। নগরীতে কোথাও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। হরতালের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নগরীর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও মিছিল করেছে।

পটিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, সকাল ৮টা থেকে পটিয়া পৌর সদরের ডাকবাংলো মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে হরতাল সমর্থকরা। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) তারিক রহমান।