মিয়ানমারে রক্তাক্ত দিনের পর গতকাল তাদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানেও গুলি চালিয়েছে সেনাবাহিনী। এর আগে গত শনিবার সশস্ত্র দিবসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১১৪ জন নিহত হয়। গতকালও বিক্ষোভে গুলিতে তিন জনের প্রাণ গেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের কড়া নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়া ১২টি দেশের প্রতিরক্ষা প্রধানমন্ত্রী বিক্ষোভে গুলি চালানোর নিন্দা জানিয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সেরগতকাল বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াংগুনের কাছের শহর বাগোতে ২০ বছর বয়সি এক ছাত্রের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়ে নামের এক নারী জানান, তারা যখন নিহতের জন্য সংগীত পরিবেশন করছিলেন, তখন সেনাবাহিনী গুলি চালায়। এ সময় অনেকেই সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে সেখানে হতাহত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
গতকাল ছিল মিয়ানমার জুড়ে শোকের দিন। তার পরও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিন জন নিহত হয়েছে। মিয়ানমার নাউ জানিয়েছে, নাইপেদোতে রাতভর চলা বিক্ষোভে গুলিতে একজন নিহত হয়েছে। তবে গতকাল ইয়াংগুন ও মান্দালয়ে বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভের তথ্য পাওয়া যায়নি। শনিবারের বিক্ষোভে ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সি ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে গুলিতে। মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, সেনাবাহিনী দেশটিতে গণহত্যা চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা
মিয়ানমারে গত শনিবার বিক্ষোভকারীদের ওপর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রায় এক ডজন দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া ও ইউরোপের সামরিক কর্মকর্তাদের রবিবার যৌথভাবে দেওয়া এক বিরল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি পেশাদার সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই কাজকর্মে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এবং তাদের দায়িত্ব দেশের মানুষকে রক্ষা করা, তাদের ক্ষতি করা নয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, শনিবারের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব একে ‘নিউ লো’ বলে উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ জরুরি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এসব সমালোচনায় যোগ দেয়নি চীন ও রাশিয়া।
