বইমেলা এলেই বই নিয়ে আলোচনা চলে দিকে দিকে। পত্রিকার পাতা, টিভির স্ক্রিনে বিস্তর কথা। কেমন লিখছেন তরুণ লেখকরা? তরুণ প্রজন্ম কী বই পড়া ছেড়ে দিচ্ছে? প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে কোথায়? আধুনিক কবিতার গায়ে দুর্বোধ্যতার লেবেল আঁটা। সেসব নিয়ে গবেষকদের রয়েছে নানা মত।
গত কয়েক বছরের বইমেলা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রযুক্তির বিকাশের কারণে বাংলাদেশে বই বিক্রি কিন্তু কমেনি। দিন দিন বই বিক্রি বাড়ছে। যদি না-ই বাড়বে তাহলে এত প্রকাশক বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী কেন হচ্ছে? প্রতি বছর নতুন নতুন প্রকাশক আসছে। এসব প্রমাণ করে বইয়ের বিক্রি বাড়ছে। বইয়ের চাহিদা রয়েছে। প্রকাশনার মানও দেশে আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। এটা ঠিক যে, তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সময় থাকার প্রবণতা রয়েছে। এর কারণে তরুণদের একটা অংশের মধ্যে বই বিমুখতা রয়েছে। এর উলটো চিত্রও রয়েছে। কিছু কিছু তরুণ বেশ সিরিয়াসলি সাহিত্য পাঠ করছে, চর্চা করছে।
বইমেলা ঘুরলে দেখা যাচ্ছে নানামুখী বিতর্ক ঠেলে ঠিকই উঠে আসছেন তরুণ লেখকরা। তাদের লেখায় বিষয়বৈচিত্র্য যেমন রয়েছে তেমনি সময়ের পদধ্বনিও উঠে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আমাদের সাহিত্য তো স্থবির হয়ে গিয়েছিল। আমাদের গল্প লেখার গতানুগতিক প্যাটার্ন হয় গিয়েছিল। সেই জায়গায় নতুন নতুন লেখকরা নতুন আঙ্গিক নিয়ে হাজির হচ্ছেন পাঠকদের সামনে।

ছবি: ফোকাস বাংলা
এ প্রসঙ্গে লোকগবেষক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি শামুসজ্জামান খান বলেন, অনেক তরুণ লেখক রয়েছেন যারা খুব ভালো কাজ করছেন। যারা সাহিত্যের চিরাচরিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন, আকর্ষণীয় কাজ করছেন। এদের মধ্যে আমি বলব মাসরুর আরেফিন, আলম খোরশেদ অনুবাদে রয়েছে। স্বকৃত নোমান ভালো লিখছে, পিয়াস মজিদ তো খুব ভালো লিখছে। তরুণদের মধ্যে যারা তিরিশ বা চল্লিশের কোঠায় রয়েছে তারা উঠে আসছে। আমি এই তরুণদের লেখকদের নিয়ে আশাবাদী।

এ প্রসঙ্গে কবি, প্রাবন্ধিক পিয়াস মজিদ বললেন, তরুণরা বিষয়বৈচিত্র্য, আঙ্গিক ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লিখছেন, যা পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে লিখছেন তারা। তরুণ কবিরা আমাদের সাহিত্যের পুনর্গঠনে ভাষার উত্স সন্ধান করে চলেছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ সময়ের সঠিক ধ্বনিকে ধরতে পেরেছেন, যা তাদের কবিতায় প্রতিফলিত হতে দেখি।
হরতালের প্রভাব ছিল না বইমেলায়
হেফাজতে ইসলামের হরতালের কোনো প্রভাব ছিল না বইমেলায়। ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, ভেবেছিলাম হরতালের কারণে মেলা জমবে না, লোকজন আসবে না, বিক্রি তেমন একটা হবে না। কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে বইপ্রেমীরা। গতকাল রবিবার মেলার ১১তম দিনে নতুন বই এসেছে ১২২টি।
মেলায় আসা উল্লেখযোগ্য বই হলো : আগামী প্রকাশনী এনেছে সৈয়দ জাহিদ হাসানের ‘শেখ মুজিবের প্রবচন’, কথা প্রকাশ এনেছে মুস্তাফিজ শফির ‘বহুমাত্রিক বঙ্গবন্ধু’, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ ‘বর্তমানে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের মুখোমুখি’, সালেক খোকনের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ‘যুদ্ধদিনের গদ্য ও প্রামাণ্য’, অন্যপ্রকাশ এনেছে হারুন-অর-রশিদের ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’, শব্দশৈলী এনেছে আফরোজা লীনার ছোটগল্প ‘তিস্তা পাড়ের গল্প’, সরল রেখা এনেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কাব্যগ্রন্থ ‘যাত্রাপুস্তক’, পালক পাবলিশার্স এনেছে কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের ‘নিজগৃহে বন্দিজীবনে ভাবনা’।
ইত্তেফাক/এএএম
