নড়াইলে দায়ের করা একটি মানহানি মামলায় জামিন পেলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সোমবার (২৯ মার্চ) সকালে নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ মুন্সী মো. মশিয়ার রহমানের আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলাটি শুনানির সময় আসামির পক্ষ ও রাষ্ট্র পক্ষ একাধিক আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন। এর আগে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের আগমন উপলক্ষে সকাল থেকে আদালত চত্বরে বিএনপির নেতা কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকায় তার দলের এক আলোচনা সভায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে বলেন, তারা নির্বোধের মত মারা গেল, আমাদের মত নির্বোধরা প্রতিদিন শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসাবে ফুল দেয়, না গেলে আবার পাপ হয়।
তার এই বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার হয়। মামলার বাদি নড়াইলের কালিয়া থানার যাদবপুর গ্রামের শেখ আশিক বিল্লাহ নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে বসে এ খবরটি পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ হন। পরে শেখ আশিক বিল্লাহ বাদি হয়ে ২৯ ডিসেম্বর (২০১৫) দুপুরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আমলে গ্রহণ করে আদালত প্রথমে সমন এবং পরে এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ২০২১ সালের ২৪ ফ্রেরুয়ারি মহামান্য হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে হাইকোর্ট নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে আদেশ দেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনানি অন্তে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ১০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন।
ইত্তেফাক/এমএএম
