ভ্রমণ গ্রন্থে কিংবদন্তি, ইতিহাস, সংস্কৃতি, সভ্যতার সুতোয় ভ্রমণের গল্প গাঁথেন জাকারিয়া মন্ডল। ২০২১ বইমেলায় প্রকাশিত নতুন গ্রন্থেও তিনি তাই করলেন। ‘সুন্দরবনের বাঁকে বাঁকে’ নামে এ বইটি প্রকাশ করেছে অঙ্কুর প্রকাশনী। প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। প্রাসঙ্গিক রঙিন আলোকচিত্র সমৃদ্ধ এটি তার চতুর্থ গ্রন্থ।
সুন্দরবনের বাঁকে বাঁকে গ্রন্থের ফ্ল্যাপে বলা হয়েছে, সুন্দরবনে সরেজমিন। বিভিন্ন সময়ে। বিভিন্ন ঋতুতে। চেনা-অচেনা নদী থেকে নদী, বিপদসঙ্কুল খাল থেকে খালে ভাসা। সৈকত মাড়িয়ে বুনো ট্রেইলে ঢুকে পড়া গভীর বনে। পরিবেশ, প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া। বুঝে নেওয়া বন ও বুনোদের মতিগতি। কখনো বানরের সঙ্গে বাঁদরামি, কখনো হরিণের সঙ্গে সখ্য। কখনোবা কুমিরের পিছু ধাওয়া, বাঘের ভয়ে পিছু হটা।
দুবলার চরে জেলে জীবনের রোমাঞ্চকর গল্প। রাশ উৎসবের অজানা কাহিনী। কমলে কামিনী দেবির আখ্যান। জোয়ার-ভাটার গান। সুন্দরী বনের অদ্ভূত সব লোকজ সংস্কৃতির অনুসন্ধান। মানুষেরই দেবী ও দেবতা হয়ে ওঠার গল্প। বনবিবির বট, মন্দিরের খোঁজ। গাজী-কালু উপাখ্যান। চম্পাবতীর সমাধি। বাঘদেবতা দক্ষিণ রায়ের গল্প। মানিক পীরের দরগা।
বাদা বনের আহত পরিবার, বাঘ বিধবাদের করুণ কাহিনী। হারিয়ে হাওয়া বসতি ও সমৃদ্ধ সভ্যতার সুলুক সন্ধান। চাপা পড়ে থাকা ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে গৌরবময় ঐতিহ্যের আখ্যান যোগ।
সুন্দরবন সম্পর্কিত সবকিছুরই সমন্বয় ঘটানো হয়েছে গ্রন্থটিতে। তাই নাম রাখা হয়েছে ‘সুন্দরবনের বাঁকে বাঁকে’। চোখে দেখা বিষয়ের সঙ্গে বিভিন্ন আকর গ্রন্থের প্রাসঙ্গিক রেফারেন্সে গ্রন্থটি সমৃদ্ধ। তবে ভ্রমণ গল্পের আদলে হওয়ায় কঠিন বিষয়কেও সহজ মনে হয়। পাঠ এগিয়ে চলে সাবলীলভাবে। লেখকের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণ হয়ে যায় পাঠকেরও।
ইত্তেফাক/এসজেড
