কিশোর গ্যাং

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২১, ২২:২৩

উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে  কিশোর গ্যাং। দেশের আনাচে কানাচে সংগঠিত হচ্ছে কিশোর অপরাধ। এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সাধারণত এই গ্যাংয়ের সদস্যদের বয়স ১৪ থেকে ১৮-র মধ্যে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অহেতুক আড্ডা, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, মারামারি, হুমকি-ধমকি,  হাঙ্গামা থেকে শুরু করে ছিনতাই, মাদক, খুনাখুনি—এইসব অপরাধেও জড়িয়ে যাচ্ছে তারা। সমাজের অনেকেই হয়তো এদের সম্পর্কে অবগত থেকেও ঝামেলার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ—পরিবারের আর্থিক অনটন কিংবা উচ্চ বিলাসিতা, শিক্ষার অভাব, অভিভাবকদের শাসনহীনতা, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, বাবা-মায়ের দীর্ঘস্থায়ী মনোমালিন্য কিংবা বিচ্ছেদ। বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানদের দৈনন্দিন কাজকর্মের প্রতি দৃষ্টি না রেখে অধিক স্বাধীনতা দেওয়ার ফলে অধিকাংশই খারাপ সঙ্গে সহজেই কিশোর গ্যাংয়ের সংস্পর্শে চলে আসে। এই কিশোর গ্যাং কালচার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। সম্ভাবনাময় কিশোরসমাজকে বিপথে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে সর্বপ্রথম অভিভাবকদের দায়িত্ববান হতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন, সমাজের গণমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদেরও এই ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এই কিংশোর গ্যাং কালচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নইলে এটি আগামীতে একটি  আধুনিক  ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজ গড়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।           

মুহাম্মদ আবু হানিফ

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ