দেশে প্রথমবারের মতো একটি আমদানি পণ্যবাহী জাহাজ বেসরকারি জেটিতে ভিড়েছে। জাপান থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন স্ক্র্যাপবাহী জাহাজ কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে কর্ণফুলী ডকইয়ার্ড জেটিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভিড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমোডর মোস্তাফিজুর রহমানসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বার্থ অপারেটর রুহুল আমিন ব্রাদার্স, শিপিং এজেন্ট এভারেট শিপিং কর্মকর্তা, কাস্টমস, বেসরকারি জেটির মালিক কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে ‘দিনা ওশান’ জাহাজটি জেটিতে ভিড়ে। চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরীক্ষামূলকভাবে উক্ত জেটিতে ভেড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপদে জাহাজ ভেড়া, অবকাঠামো সুবিধা এবং আর্থিক সাশ্রয়ী হলে উক্ত জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর (ডিসি) ক্যাপ্টেন ফরিদ জানান, জাহাজটি জাপানের ওটিভা পোর্ট থেকে স্ক্র্যাপ বোঝাই করে আসার পর গত এক সপ্তাহ পর্যন্ত বহির্নোঙরে অপেক্ষা করার পর এই জেটিতে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, জাহাজটি স্বাভাবিক নিয়মে চট্টগ্রাম বন্দরের নির্দিষ্ট জেটিতে ভিড়তে আরো কয়েক দিন বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু প্রাইভেট জেটিতে ভেড়ার সুযোগ থাকায় অনেক আগে পণ্য খালাস নিতে পারবে।
জানা যায়, কর্ণফুলী ড্রাইডক কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে পাশাপাশি তিনটি জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে মেরিন একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় বেসরকারি পর্যায়ে বৃহদাকার ড্রাইডক এবং তিনটি জেটি নির্মাণের কাজ চলছে। তিনটি জেটির মধ্যে গতকাল ১০৩ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩৫ মিটার প্রস্থের ১ম জেটিতে ‘দিনা ওশান’ জাহাজটি ভিড়ে। এর পাশাপাশি আরো দুইটি জেটি নির্মাণাধীন রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরো একটি জেটি জাহাজ ভেড়ানোর জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানা যায়। জেটিসমূহের সম্মুখে কর্ণফুলী নদীতে ১১ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানানো হয়। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরে সাধারণত ৯ মিটার ড্রাফটের (পানির নিচের অংশ) জাহাজ ভিড়তে পারে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ ভিড়তে পারে।
কর্ণফুলী ড্রাইডক ও জেটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ জানান, উক্ত এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে বেশি ড্রাফটের এবং বেশি লম্বা জাহাজ ভেড়ার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, নদীর অপর পাড়ে বেসরকারি জেটি হবে এবং জাহাজ ভিড়বে তা ইতিপূর্বে কেউ চিন্তা করেনি। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা চিন্তা করে তার প্রতিষ্ঠান জেটি নির্মাণ এবং ড্রাইডক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
