সুয়েজ খালে চলাচল স্বাভাবিক

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২১, ২২:২৫

ছয় দিন বন্ধ থাকার পর ফের স্বাভাবিক হয়েছে মানুষের তৈরি বিশ্বের ব্যস্ততম সুয়েজ খাল। একটি মালবাহী জাহাজ আটকে পড়ায় গত ২৩ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে পড়েছিল এশিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার সংক্ষিপ্ততম এই জলপথ। ফলে হঠাত্ করেই থমকে গিয়েছিল দুই মহাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান। দীর্ঘ চেষ্টার পর সোমবার ফের তা চালু হয়েছে। পানিতে ভেসেছে সেই দৈত্যাকার জাহাজ। খবর ডেইলি মেইল ও ডয়চেভেলের

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এক্সট্রানিউজের ফুটেজে দেখা যায়, টাগ বোট পরিবেষ্টিত অবস্থায় ধীরে ধীরে জাহাজটি খালের মাঝ বরাবর এগিয়ে যাচ্ছে। সে সময় তার গতি ছিল ঘণ্টায় ১ দশমিক ৫ নটস (২ দশমিক ৮ কিলোমিটার)। সুয়েজ ক্যানেল অথরিটির (এসসিএ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দৈত্যাকৃতি কন্টেইনার জাহাজ এভার গিভেনকে উদ্ধার এবং ভাসানোর পর এসসিএ সুয়েজ খালে নৌচলাচল শুরু হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা বলেছেন, সে (জাহাজ) এখন মুক্ত। স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে ফের পানিতে ভাসে এভার গিভেন। বার্নার্ড সালটে নামে এক সংস্থা সুয়েজে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে উদ্ধারের কাজ করে।

৫০০ মিটার লম্বা, ৫৯ মিটার প্রস্থ ও ২ লাখ ২০ হাজার টনের জাহাজটি ভূমধ্যসাগরের দিকে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এক পর্যায়ে সেটি খালের মধ্যে আড়াআড়ি আটকে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রবল বাতাসের কারণে জাহাজের হাল বিচ্যুত হয়। এরপর তা ঘুরে যায়। জাহাজের তলা খালের নিচে কাদামাটির মধ্যে আটকে ছিল। আটকে পড়া দানবাকার জাহাজটি সরাতে চেষ্টা চলছিল নানাভাবে। ড্রেজিং-শিপ এনে, টাগ বোট লাগিয়ে, জোয়ারের সময় বেড়ে যাওয়া পানি ও উঁচু ঢেউকে কাজে লাগিয়ে সেটি নড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছিল না। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, খালের দুই পাশে কন্টেইনারবাহী, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী, তেলের ট্যাংকার এবং পশুবাহী অন্তত ৩৬৯টি জাহাজ আটকে পড়েছিল। এর মধ্যে রোমানিয়ারই ১৩টি পশুবাহী জাহাজ ছিল। সুয়েজ খাল অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে বিশ্ব। প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ১ হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হয়। এর মধ্যে শুধু মিশরেরই প্রতিদিন ক্ষতি হয় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।