বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

চট্টগ্রাম, নওগাঁ ও কিশোরগঞ্জে সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২১, ০০:১৭

দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পালটাপালটি ধাওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে  নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে চট্টগ্রাম, নওগাঁ ও কিশোরগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। নওগাঁয় সাত পুলিশসহ বিএনপির অন্তত ৫০ জন এবং কিশোরগঞ্জে বিএনপির ২০ নেতাকর্মী আহত হন। এছাড়া নাটোর, টাঙ্গাইল, বান্দরবান ও সুনামগঞ্জে কর্মসূচি পালনকালে পুলিশ বাধা দেয়। এসব ঘটনায় চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হেফাজত-সমর্থক মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ, হত্যা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, দুপুরে নওগাঁ কেডির মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর শুরু করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে বিএনপির একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় পুলিশের সাত সদস্যও আহত হন। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সদর থানার ওসি জানান।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে  বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সংঘর্ষকালে শহরের পুরান থানা মোড় ও একরামপুর মোড়সহ আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাথর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের জবাবে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় এক পরিদর্শকসহ পুলিশের তিন সদস্য এবং বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। দফায় দফায় গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ সময় শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ দুই জনকে আটক করেছে।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া তিন মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, নগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনিসহ ১৫ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহানের আদালত গতকাল এ আদেশ দেয়। এর আগে পুলিশ ১৫ নেতাকর্মীকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আজ বুধবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় উভয় পক্ষের পালটাপালটি ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে অন্তত ১৫ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ এবং অর্ধশতাধিক আহত হন বলে বিএনপি দাবি করেছে। পরবর্তী সময়ে দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে এবং পাঁচলাইশ এলাকার একটি ক্লিনিক থেকে ডা. শাহাদাত, তার ব্যক্তিগত সহকারী মারুফ ও পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ আলীকে আটক করে পুলিশ। এসব ঘটনায় সোমবার রাতে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা হয়। উভয় মামলায় দলের কেন্দ্রীয় বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ও নগর কমিটির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্করসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। একই দিন নগরীর চকবাজার থানায় শাহাদাতের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন বিএনপি নেত্রী ডা. লুসি খান।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, সকালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ধাওয়া করলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, পুলিশি বাধায় জেলা বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেছে। সকালে শহরের আলাইপুরে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার চেষ্টা করলে বিএনপির দুই নেতাকে পুলিশ আটক করে। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের কাছ থেকে আটক দুই নেতাকে ছাড়িয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।