হংকংয়ের নির্বাচনসংক্রান্ত বিধিবিধানে পরিবর্তন এনেছে চীন। চীনের পার্লামেন্টের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা এনপিসির স্ট্যান্ডিং কমিটিতে সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছে হংকংয়ের নির্বাচনি সংস্কারের প্রস্তাব। ১৬৭-০ ভোটে তা গৃহীত হয়েছে। এর ফলে হংকংয়ে নির্বাচনি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে এবং সেখানে গণতন্ত্রপন্থিদের আর কোনো গুরুত্ব থাকবে না। সমালোচকরা বলছেন, এটি হংকংয়ের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ আরো দৃঢ় করবে। এই আইন সংস্কারের উদ্দেশ্য কেবল ‘দেশপ্রেমিক’ ব্যক্তিরাই যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। খবর বিবিসি ও ডয়চেভেলের
সমালোচকরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এই আইন বিরোধীদেরকে পার্লামেন্টের বাইরে রাখবে, যার অর্থ সেখানে গণতন্ত্রের অবসান ঘটবে। চীনের এ পদক্ষেপের অর্থ হলো যে কোনো সম্ভাব্য সংসদ সদস্যর বিষয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই পরীক্ষা করে দেখা হবে যে তিনি চীনের প্রতি যথেষ্ট অনুগত কিনা। এর আগে গত মার্চে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের সময় বেইজিং হংকংয়ের নির্বাচনি পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এখন হংকংয়ের মিনি সংবিধানে সংযোজনের আগে কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটি প্রস্তাবিত আইনটির সবকিছু খতিয়ে দেখছে।
১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে হংকং পেয়েছিল চীন। তারপর এত ব্যাপক নির্বাচনি সংস্কার এই প্রথম করা হলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী হংকংয়ের পার্লামেন্টের আসন সংখ্যা ৭০ থেকে বেড়ে ৯০টি হবে। কিন্তু নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা ৩৫ থেকে কমিয়ে ২০ করা হয়েছে। অর্থাত্, মনোনীত সদস্যের সংখ্যা নির্বাচিত সদস্যের থেকে অনেক বেশি থাকবে। কিন্তু এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটা হবে এমন এক পদ্ধতি যেখানে পার্লামেন্টের এমপি হতে যারা লড়বেন তাদের আগে ভেটিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফলে চীনের সমালোচক কোনো রাজনীতিককে আগেই বাদ দেওয়া সম্ভব হবে। এখন লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের অর্ধেক সদস্যকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হয় এবং অতীতে এমন কিছু আসনে গণতন্ত্রপন্থিরা নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর বাকি অর্ধেক আসনগুলোতে মূলত ব্যবসা, বাণিজ্য কিংবা ব্যাংকিং খাতের মতো খাতগুলো থেকে নেওয়া হয় যেগুলো ঐতিহাসিকভাবেই বেইজিংপন্থি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া ইলেকশন কমিটির সদস্য ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ করা হয়েছে। এই ইলেকশন কমিটিই হংকংয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ এবং লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্যদের মনোনীত করে।
হংকংয়ের মূল আইনটিই কি
পুনরায় লেখা হচ্ছে?
মূল আইনটিই পালটে ফেলা হচ্ছে কি না তা নিয়ে এখন বিতর্ক চলছে। এটি ছিল মূলত ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তি, যেটি ১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় সম্পাদিত হয়েছিল। হংকংয়ের বেইজিংপন্থি শিবির বলছে, সংবিধান পালটে ফেলা হচ্ছে না তবে গণতন্ত্রপন্থিরা বলছেন সেটিই করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক ইয়ান চংয়ের মতে, ‘কার্যত বেসিক ল’র পরিবর্তন এটা নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের যে চেতনা বা সার্বজনীন ভোটাধিকারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে।
