‘গ্যাং কালচার’ বিরোধে রাজধানীতে আবারও এক কিশোর খুন হয়েছে। সোমবার রাতে ঢাকার সূত্রাপুরে দুই গ্রুপ কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে এক জন কিশোর নিহত ও এক জন গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় তিন কিশোরকে গ্রেফতার করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। তাদের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। তবে গতকাল মঙ্গলবার আদালত বন্ধ থাকায় রিমান্ডের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
সূত্রাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ মামুনুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘নিহত কিশোর অনন্তের (১৬) বাবা সাহাদত হোসেন বাদী হয়ে ছয় কিশোরের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছে। ঐ মামলার আসামি তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো—ফেরদৌস (১৩), সাজ্জাদ (১৪) ও প্রান্ত (১৩)। এর মধ্যে ফেরদৌসের ছুরিকাঘাতে অনন্তের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সাজু আহমেদ নামে আরেক কিশোর আহত হয়েছে।’
ওসি বলেন, তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে আদালত বন্ধ থাকায় রিমান্ডের শুনানি হয়নি। যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের বয়স কত? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৪-১৫ বছর হবে। এই কিশোরদের কি রিমান্ডে নেওয়া যায়? জবাবে তিনি বলেন, এখনো তিন জন পলাতক, তাদের গ্রেফতারের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছি। এখন আদালতের বিষয়। আদালত রিমান্ডে দিলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব।
হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সাজু আহমেদ জানিয়েছে, তারা ৮-৯ জন নামাজ পড়ে ঘোরাফেরা করে বাসার উদ্দেশ্য ফেরার পথে ফরাশগঞ্জ ঘাট এলাকায় গেলে তাকে মারধর করে ফেরদৌসসহ ১০-১২ জন। তখন অনন্ত প্রতিবাদ করতে এগিয়ে গেলে, ফেরদৌস অনন্তের পেটে বেশ কয়েক বার ছুরিকাঘাত করে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত অনন্ত স্থানীয় জুবলী স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। দুই ভাইয়ের মধ্যে অনন্ত ছিল ছোট। সাজু এখনো চিকিত্সাধীন।
সূত্রাপুর থানার ওসি বলেন, ‘গত ১০ মার্চ একটি চাকুসহ অনন্তকে আমরা আটক করেছিলাম। পরে তার বাবা মুচলেকা দিয়ে নিয়ে যায়। তাকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দুই দিন আগে আবার ঢাকায় এসেছে। আজই তার গ্রামে চলে যাওয়ার কথা ছিল। আসলে এই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে ১৬ বছরের কিশোরের সামনে ১৪ বছরের কিশোরের সিগারেট খাওয়ায় সিনিয়রের সম্মানহানি হয়েছে। এটা নিয়েই মূলত তাদের বিরোধ।’
