সবার নজর নন্দীগ্রামে

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২১, ০০:১২

প্রচারণা শেষ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ৩০ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তবে সবার নজর নন্দীগ্রামের দিকেই। কারণ এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘সুপার স্টার’ প্রার্থী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আর তার বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তারই সাবেক অনুসারী শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার শেষ সময়ে নন্দীগ্রামের এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় প্রচারণা চালান শুভেন্দু অধিকারী। তার হয়ে আলাদাভাবে রোড শো-তে অংশ নেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। অন্যদিকে গত তিন দিন ধরে নন্দীগ্রামে প্রচারণা চালান মমতা ব্যানার্জি। গতকাল ভাঙাবেড়ার শহিদ বেদী থেকে সোনাচূড়া বাজার পর্যন্ত মিছিল দিয়ে শুরু হয়েছিল তার প্রচারণা। বিকাল পর্যন্ত একের পর এক সভা করেন সোনাচূড়া, বাসুলিচক লকগেটে এবং টেঙ্গুয়ায়। প্রচারণা চালান সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জিও।

প্রচারণায় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘ইভিএম খারাপ হলেও অপেক্ষা করবেন। ভোট না দিয়ে কেউ ফিরে যাবেন না।’ ভোট দিয়ে বিজেপিকে রাজনৈতিক কবর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। রোড শো শেষে রেয়াপাড়ায় অমিত শাহ বলেন, ‘বিজেপির জয় নিশ্চিত। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীই জিতবেন।’

যদিও নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি গরম হয়েছে গত রবিবার থেকেই। সেদিন প্রচারণা সভায় মমতা বলেন, ‘২০০৭ সালের ১৪ মার্চ শুভেন্দু পুলিশ ডেকে এনেছিল। এবারও বাইরে থেকে পুলিশের পোশাকে লোক ঢোকানো হতে পারে।’ উল্লেখ্য, ঐ দিন পুলিশের গুলিতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি কেন্দ্র করে সেই সময় ক্ষমতাসীন সিপিএম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে থেকে পিছাতে শুরু করে। সামনের সারিতে আসতে থাকে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস। পালটা শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী বলেছেন, ‘উনি হারবেন বুঝে উলটাপালটা কথা বলছেন।’

বুদ্ধদেবের ভিডিও বার্তা

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘?কুটিল চিত্রনাট্যের চক্রান্তকারীরা আজ পরস্পরের দিকে কাদা ছোড়াছুড়ি করছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে যুব সমাজ। পশ্চিমবঙ্গকে বিপদ থেকে রক্ষা করুন। গণতান্ত্রিক, ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার গড়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ইতিহাস তৈরি করুন।’

আসামে দ্বিতীয় দফার ভোট

বৃহস্পতিবার আসামে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হবে। এদিন ৩৯ আসনে ভোট গ্রহণ হবে। আসনগুলো বরাক উপত্যকা অঞ্চলে। যেখানে মুসলিম ভোট বেশি। স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় কংগ্রেসের জোট এই অঞ্চলে যত বেশি সম্ভব বেশি আসন দখলের দিকে লক্ষ্য রেখে এগোচ্ছে। ২৭ মার্চ প্রথম দফায় আপার আসামে ৪৭ আসনে ভোটগ্রহণ হয়ে গেছে। বিজেপির দাবি এই দফায় সব আসনে তারাই জিতছে। ৬ এপ্রিল আসামে তৃতীয় দফায় বাকি ৪০ আসনে নির্বাচন হবে।