গত কয়েক দিন ধরে দেশে করোনা সংক্রমণ বিগত দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে চারদিকে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৮ দফা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও রেলওয়েকে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার থেকে তা কার্যকর হয়েছে।
তবে রেলপথে সেটা এখনো কার্যকর হয়নি। ফলে স্টেশনের প্রবেশ পথে শরীরের তাপমাত্রা দেখে স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি মিললেও অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ট্রেনে চলাচল করতে দেখা গেছে। এমনকি অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা গেছে ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করে যাত্রীদেরকে ট্রেনে উঠতে। আবার আসনবিহীন যাত্রীও ট্রেনে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করছে। দেখা মেলেনি স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই।

ছবি: ইত্তেফাক
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছে, আগামী ৫ তারিখ থেকে অর্ধেক আসনে যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে ট্রেন। এর আগে যাদেরকে টিকেট দেওয়া হয়েছে তাদেরকে নিয়ে চলাচল করতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারকে দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে। এছাড়া কোথাও কোন জনসমাগম করার সুযোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা সিলেট অভিমুখী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ১১টায় এসে রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশনে থামলেই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। ট্রেনের একটি বগির ভেতরে গেলে দেখা যায় আসন ছাড়াও যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছে। প্রবেশ পথ পুরোটাই ভিড় করে মানুষের জট বাঁধিয়ে রেখেছে। একই চিত্র দেখা গেছে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ও জামালপুরগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে।

ছবি: ইত্তেফাক
জয়িন্তিকা ট্রেনে ভৈরব যাবেন কামাল হোসেন। ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে কথা হয় এ যাত্রীর সঙ্গে। রাগান্বিত হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আগেই অগ্রিম টিকেট কাটছি। দাঁড়িয়ে যাত্রী না নেওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনে যারা আছেন তারা ঠিক দাঁড়িয়ে যাত্রী নিচ্ছেন। বিমানবন্দরে স্টেশনে এসে অনেক যাত্রী উঠেছে যাদের অনেকের কোন টিকেট নেই আসনবিহীন দাঁড়িয়ে আছে। কিসের স্বাস্থ্যবিধি? আমরা যারা স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাই, নানা সমস্যার জন্য সেটা আর পারা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রেলওয়ে কর্মকর্তা বলেন, গতবছর যে নিয়ম আছে ট্রেনে আসনবিহীন কোন যাত্রী উঠতে পারবে না এ নিয়মে এখনো চলছে। তবে কখনো কখনো যাত্রীরা টিকেট ছাড়াও আসন ছাড়াও নানাভাবে উঠে যাচ্ছে। আর গাড়িতে উঠলে যেকোনোভাবে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। আমরা যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে আছি স্টেশনে আমরা সবসময় চেষ্টা করছি সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

ছবি: ইত্তেফাক
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারোয়ার বলেন, ‘আমরা আসনবিহীন কোন যাত্রীকে ঢুকতে দিচ্ছি না স্টেশনে। যদি এইরকম কোন অভিযোগ আসছে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মার্চের ২৮ তারিখ থেকেই আমরা অর্ধেক আসনের টিকেট অগ্রিম দিচ্ছি। এর আগে যারা টিকেট নিয়েছে সেসকল যাত্রীদের নেওয়া শেষ হলে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে শতভাগ অর্ধেক যাত্রী প্রতিটি ট্রেন স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে।

ছবি: ইত্তেফাক
হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘গণপরিবহনে কিংবা রেলওয়েতে ভিড় কমাতে হলে আগে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সকল অফিসে জনবহুল অর্ধেক নিয়ে আসতে হবে। শিফট চালু করে কাজ পরিচালনা করতে হবে। কর্মঘণ্টা ৬ ঘণ্টার বেশি করা যাবে না। শপিংমল এবং বাজারগুলো নির্দিষ্ট সময় খোলা রেখে তারপর বন্ধ রাখতে হবে। শুধু সরকারি অফিসগুলো নিয়ম মানলে হবে বেসরকারি যত অফিস আছে এক নিয়ম মানতে হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষদের আইন করে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দ্বারা বাধ্য করে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে। এলাকাভিত্তিক গ্রামে-শহরে প্রতিটি মহল্লায় জনপ্রতিনিধিরা স্বেচ্ছাসেবকরা এগিয়ে আসতে হবে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে।’
এ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘এ সময়ে সরকারের উচিৎ সবদিকে একইভাবে কাজ করা। দ্বিমুখী হওয়া যাবে না। যেমন বই মেলা চালিয়ে কিংবা কোন পাবলিক পরীক্ষা এখন নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। এসব বিষয়গুলো বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্যবিধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে একইসঙ্গে সংক্রমণও কমবে। সড়কে মানুষের ভিড় কমবে।’
ইত্তেফাক/এএএম
