করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জয়পুরহাটের বিভিন্ন স্থানে হাত ধোওয়ার জন্য জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৪০টি হ্যান্ড ওয়াশিং বেসিন স্থাপন করা হলেও তা এখন ব্যবহার উপযোগী নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্তমানে বেশিরভাগ বেসিনে নেই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, নেই সাবান।
জয়পুরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং পৌরসভা ৩০ নামে প্রকল্প থেকে করোনাকালীন মোট ৪০টি হ্যান্ড ওয়াশিং বেসিন স্থাপন করে। জয়পুরহাট পৌর ও সদর উপজেলায় ৩০টি এবং আক্কেলপুর পৌর সদরে পাঁচটি এবং পাঁচবিবি পৌর সদরে পাঁচটি করে হ্যান্ড ওয়াশিং বেসিন বসানো হয়। প্রতিটি হ্যান্ড ওয়াশিং বেসিনের জন্য খরচ ৩০ হাজার টাকা করে। এতে মোট খরচ হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
সরেজমিন দেখা গেছে, শহরের জেলা আইনজীবী ভবনের পূর্ব দক্ষিণ পাশের কোনায় জেলা জজ আদালত ভবনের দেওয়ালে হ্যান্ড ওয়াশিং বেসিন বসানো আছে। সেখানে বেসিনে সাবানদানি থাকলেও কোনো সাবান নেই। আবার তা অপরিষ্কারও দেখা যায়। জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী শাহানুর রহমান জানান, ঐ হ্যান্ড ওয়াশিং বেসিন দেখভাল করার জন্য কেউ তাদের দায়িত্ব দেয়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে জয়পুরহাট রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বসানো হ্যান্ড ওয়াশিং বেসিনে সাবানও নেই, পানির সরবরাহও নেই। আশেপাশে ময়লা ছড়িয়ে আছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. ওয়াজেদ আলী জানান, করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার পাশাপাশি সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করার কোনো বিকল্প নেই।
এ ব্যাপারে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোছা. উম্মে রোমান খাঁন জনি জানান, জনসমাগমের স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার জন্য হ্যান্ড ওয়াশিং বেসিন বসানো হয়েছে। ঐ সব দেখভাল করার জন্য বিভিন্নভাবে স্থানীয় কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও করোনার প্রাদুর্ভাব মাঝখানে কিছুটা কম হওয়ায় হাত ধোয়ার কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়ে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায় জানান, করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার জন্য বেসিনগুলো সচল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জনস্বাস্থ্য বিভাগকে লিখিতভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছি।
