ঘিওরে শিশু ধর্ষণের ঘটনা জরিমানায় ধামাচাপা

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২১, ২১:৫২

ঘিওরে সাত বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আবু বক্কর নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ঘিওর থানাপুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার আবু বক্করকে মানিকগঞ্জ কোর্টে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোলাপনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামে। একই গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে অভিযুক্ত বক্কর ঘিওর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী।

ধর্ষণের শিকার শিশুর পরিবার ও মামলার এজাহার মারফত জানা যায়, উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের মো. বক্কর মিয়ার উঠানে খেলা করছিল শিশুটি। এক পর্যায়ে চকোলেট ও টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন করতে থাকলে মেয়েটি চিত্কার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এক পর্যায়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা ও সালিশের মাধ্যমে আপস মীমাংসা করার জন্য ভুক্তভোগীর মাকে চাপ দেয় স্থানীয় মাতব্বররা। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় তড়িঘড়ি করে গ্রাম্য মাতব্বর মান্নান ও জাবেদ মিয়া সালিশে ধর্ষণ ঘটনার বিচারের আয়োজন করেন। সালিশে ধর্ষককে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মামলা করা থেকে বিরত থেকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য পরিবারটিকে বলা হয়। রিকশাচালক বাবা তার সন্তানের ওপর পাশবিক নির্যাতনকারী ও বিচার সালিশে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) তানিয়া সুলতানা জানান, ‘আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ধর্ষককে আটক করি। বাকি আসামিদের আটকের জোর তত্পরতা চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার শিশুর মা বাদী হয়ে তিন জনকে আসামি করে ঘিওর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি আরো জানান, শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মানিকগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।