গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২১, ০০:২৮

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্তের পর ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাদানুবাদ হচ্ছে কনডাক্টরদের। যাত্রীদের অভিযোগ, বাসে অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় প্রতি সিটেই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ হারে। যাত্রী পরিবহনে চালক ও কনডাক্টররা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

অন্যদিকে, বাস মালিকরা অভিযোগ করেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করতে চাইলেও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে তারা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। কোনো বাস স্টপেজে বাস থামলেই যাত্রীরা জানালা দিয়ে বাসের ভেতর প্রবেশ করছেন। বাসের দরজা খুলতে না চাইলে যাত্রীরা হেলপারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বাসে আরোহণ করছেন।

আবার, অ্যাপসে রাইড শেয়ারিং বন্ধ করে দেওয়ায় চুক্তিতে যাত্রী পরিবহন করছেন মোটরসাইকেলচালকেরা।

সড়ক অবরোধ

গতকাল বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর, মহাখালী, কাকরাইল, শাহবাগ, পল্টন, প্রেসক্লাব ও গুলিস্তান এলাকায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। গণপরিবহন না পেয়ে যাত্রীরা সকালে খিলক্ষেতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভও করেছেন। অবরোধকারীদের অভিযোগ, সরকারের বিধিনিষেধের সুযোগ নিয়ে পরিবহনের মালিক-শ্রমিকরা বাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন।

খিলক্ষেত থানার ওসি মুন্সী ছাব্বীর আহম্মদ জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে বাসগুলো অর্ধেক যাত্রীর বেশি তুলছে না। ফলে অফিসগামী মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে পারছেন না। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে খিলক্ষেত ওভারব্রিজের নিচে সড়ক বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে পুলিশ বিক্ষুব্ধদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ সঠিক নয়। বাসের সংকট কেন হবে? আগে যতসংখ্যক বাস ছিল, তা-ই রাস্তায় আছে।’ ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পরিবহনের এই নেতা বলেন, বাসে ভাড়া বেশি নিলে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত শাস্তি দেবে।

লঞ্চে ডেক ও বসে যাওয়ার ভাড়া পুনর্নির্ধারণ

যাত্রীবাহী লঞ্চের শুধু ডেক ও বসে যাওয়া শ্রেণির যাত্রীভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করার নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী লঞ্চের ডেক শ্রেণি ও বসে যাওয়া শ্রেণির বিদ্যমান ভাড়ার ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালীন, অর্থাত্ সরকারি প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত সময়ের জন্য যাত্রীভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এ ভাড়া কার্যকর হয়েছে। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গতকাল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

লঞ্চগুলো অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করছে কি না এবং সরকারনির্ধারিত ভাড়ার থেকে বেশি নিচ্ছে কি না, তা কীভাবে মনিটরিং করা হবে জানতে চাইলে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ পুলিশ মনিটরিং করবে। মহামারির মধ্যে লঞ্চের ই-টিকিটিং চালু করতে লঞ্চমালিকদের বলা হয়েছে জানিয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারা বলেছেন, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালীন, অর্থাত্ সরকারি প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত সময়ের জন্য যাত্রীভাড়া পুনর্নির্ধারণ করার ফলে দাঁড়িয়েছে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য জনপ্রতি যাত্রীভাড়া প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৭২ পয়সা। ১০০ কিলোমিটারের অধিক দূরত্ব, অর্থাত্ ১০০ কিলোমিটার-পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য জনপ্রতি যাত্রীভাড়া প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ২৪ পয়সা এবং জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ২৮ টাকা ৮০ পয়সা।

চুক্তিতে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন

অ্যাপের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং করায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তাই বলে থেমে নেই মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন। চুক্তিতে যাত্রী পরিবহন করছেন মোটরসাইকেলচালকেরা। গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এমন চিত্র দেখা গেছে। ধানমন্ডি এলাকা থেকে যাত্রী পরিবহন করা এক বাইকচালক ফজলুর রহমান বলেন, ‘পাঠাও এবং উবারে রাইড শেয়ার করি। আমার তো দৈনিক আয়। এটা ছাড়া তো আর কোনো ইনকাম নাই।’