দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর তৈরি করা এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) বলেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও পারিবারিক নির্যাতনের যে চিত্র পাওয়া যায় তা উদ্বেগজনক। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা ও গ্রেফতার, সীমান্তে হত্যা-নির্যাতন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এমএসএফ গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। গত বুধবার সংস্থাটির মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদনে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী গত মার্চ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন চার জন। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের লাগাতার বিক্ষোভ সমাবেশ ও তাদের ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে হেফাজতের দাবি ও খবরের কাগজের রিপোর্ট মোতাবেক কমপক্ষে ১৪ জন কর্মী নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। যা অপ্রত্যাশিত ছিল না বরং অনাকাঙ্ক্ষিতও ছিল। মার্চে কারা হেফাজতে তিন জনের মৃত্যু ঘটেছে। কিশোরগঞ্জ কারাগারে সাহিন মিয়া, কাশিমপুর কারাগারে ইব্রাহীম হোসেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোরশেদ আলী কারাবন্দি হিসেবে মারা যান।
এদিকে সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী মার্চে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা যেমন—ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা ও হত্যার ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটে চলেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী এ মাসে ৩৪২টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ১১২টি, (গণধর্ষণ ১৮টি, ধর্ষণ ও হত্যা দুটি উল্লেখযোগ্য), এদের মধ্যে আট জন প্রতিবন্ধী শিশু কিশোরীও ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যাপক ব্যবহার এ মাসে নানা উদ্বেগ আর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এ মাসে ৯টি মামলা করা হয়েছে এবং ৯ নাগরিককে এ আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া এমএসএফ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ মাসে সাতটি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ?ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা, লুটপাট ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মার্চ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এমএসএফ মনে করে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ। দেশের মানবাধিকার রক্ষায় একটি গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে আইনের শাসন, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা অত্যাবশ্যকীয়। করোনা ভাইরাসের এই সংকটকালীন মানবাধিকারের সুরক্ষা বিশেষ করে মানুষের জীবনের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের আরো আন্তরিক ও দৃশ্যমান ভূমিকা গ্রহণ করা আবশ্যক বলে এমএসএফ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। —প্রেস বিজ্ঞপ্তি
