কাজী মনিরা তরফদার, সহকারী শিক্ষক (বাংলা)
ঝনকা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ আমি তোমাদের জন্য একটি নমুনা প্রশ্ন ও উত্তর দিচ্ছি একটু মনোযোগ দিয়ে দেখে নাও।
উদ্দীপকটি পড়ো :
“জন্মিলে মরিতে হবে ,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে;
মক্ষিকাও গলে না গো পড়িলে অমৃত-হ্রদে” ।
(ক) শিশিরের জলে কোন ফুল ভিজে?
(খ) ‘সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
(গ) উদ্দীপকের প্রথম তিন চরণে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার কোন চিত্রটি ফুটে ওঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) উদ্দীপকের শেষাংশের সাথে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর :
(ক) চালতা ফুল শিশিরের জলে ভিজে।
(খ) ‘সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!’ বলতে কবি বুঝিয়েছেন, মানুষ মরণশীল কিন্তু এই পৃথিবীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য শাশ্বত, অবিনশ্বর, চির বহমান।
‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবি ভেবেছেন তিনি একসময় থাকবেন না, কিন্তু প্রকৃতি তার নিজ মহিমায় প্রাণবন্ত হয়ে থাকবে অনন্তকাল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মানুষের স্বপ্নের কোন ক্ষয় নেই। আর এই যে তার অবিরাম চলার গল্প তা বেঁচে থাকবে চিরকাল। মানুষের স্বপ্ন আর প্রকৃতির বহমানতা নিরন্তর ।
(গ) উদ্দীপকের প্রথম তিন চরণের সাথে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার মানুষের মৃত্যুর অনিবার্যতার চিত্র ফুটে ওঠেছে ।
মানুষ মরণশীল কিন্তু তার স্বপ্ন জীবন্ত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবিনশ্বর। ভাঙা-গড়ার মাঝেই জীবন। এভাবেই আমাদের জীবনকে চালিয়ে নিতে হয়। জীবন থেমে থাকে না। এই পৃথিবী তার স্বাভাবিক নিয়মেই চলে। এই নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটে না। ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবি তাঁর না থাকার দুঃখের কথা বলেছেন আবার তিনি তাঁর স্বপ্নের কথাও বলেছেন। স্বপ্ন বেঁচে থাকবে সে কথাও বলেছেন। বলেছেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যের কথা। চালতাফুল, শিশির ভেজা জল, লক্ষ্মীপেঁচার গান, খেয়ানৌকো, বালুচর ইত্যাদি জীবনের নানা গল্প বেঁচে রবে শুধু কবি বেঁচে থাকবেন না ।
উদ্দীপকে কবি বলেছেন জন্মিলে মরণের স্বাদ অনিবার্য । এ ধরায় কেউই আজীবন বেঁচে থাকে না, থাকবে না । কিন্তু কবি নিজের কর্মগুণের ফলে পৃথিবীতে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চেয়েছেন ।
(ঘ) উদ্দীপকের শেষাংশের সাথে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার সাদৃশ্যের দিকটি হলো, মানুষের জীবন, মৃত্যু ও তার স্বপ্নের অবিনশ্বরতা।
জন্মগ্রহণ করিলে মরিতে হবে নিশ্চিত। কেউ কখনো অমর থাকতে পারবে না। নদীর পানি যেমন স্থির নয় তেমনি স্থির নয় জীবনও। সত্ কর্মের মাধ্যমে মানুষ বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকে তার কর্মের ফসল।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, এ পৃথিবী ছেড়ে কেউই যেতে চায় না । কিন্তু তবুও এ ধরার মায়া ত্যাগ করে যেতে হয়,যেতে হবে । কবি বলেছেন যদি তার কোনো ভালো কাজের জন্য মানুষ তাকে মনে রাখে তাতেই তিনি তৃপ্ত । কবি জীবনানন্দ দাশ তাই বলেছেন হয়তো আমি থাকবো না। কিন্তু আমার স্বপ্ন বেঁচে থাকবে। প্রকৃতি তার স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে কেননা প্রকৃতি চিরসুন্দর , চির সত্য চিরবহমান। মরণশীল মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। কিন্তু এই পৃথিবীর সৌন্দর্য্যের ও মানুষের স্বপ্নের কোনো মৃত্যু নেই। অথচ প্রকৃতি সদাই ব্যস্ত তার রূপ রস গন্ধ বর্ধনে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলোই আলোচ্য কবিতাটি সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠেছে।
