খরায় পানির স্তর নেমে গেছে
বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
বাঘায় চৈত্রের খরায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। আর তাই এলাকার কোনো টিউবওয়েলেই ঠিকমতো পানি উঠছে না। ফলে পানিসংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। একই সঙ্গে ক্ষতি হচ্ছে আমসহ অনেক ফসলের।
উপজেলার আমোদপুর গ্রামের গৃহিণী তানিয়া হাসান বলেন, আমাদের বাড়ির বাইরে একটি টিউবওয়েল এবং ভেতরে মোটর ব্যবস্থা চালু আছে। বাইরের টিউবওয়েলে গত ১০ দিন ধরে পানি উঠছে না। আর ভেতরে মোটর চালু করলে আগে পানির ট্যাংক ভর্তি হতে যে সময় লাগত এখন তার চেয়ে তিন গুণ বেশি সময় লাগছে। এতে করে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। তার মতে, অনেক দিন ধরে বৃষ্টির দেখা না মেলা এবং প্রচণ্ড রোদের কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে মরমি শিল্পী আব্বাস উদ্দীনের সেই বিখ্যাত গান ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দে রে তুই আল্লাহ মেঘ দে’ গান গেয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি পানি চেয়ে ব্যাঙের বিয়ে দিচ্ছে কতিপয় শিশু। তাদের ধারণা, এভাবে মানুষের বাড়ি বাড়ি গান গেয়ে পানি মারলে বৃষ্টি হবে। উপজেলার তেপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক দুলু সরকার এবং স্কুলশিক্ষক আবু সাঈদ বৃটেন বলেন, এখন ঘরে-বাইরে কোথাও যেন একটু স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জলাশয়, খাল ও বিল শুকিয়ে যাওয়ায় তরমুজখেতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। এমনকি পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। খরায় পুড়ছে ফসলের খেত। প্রচণ্ড রোদে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে ভয় পাচ্ছে। এক কথায় খরা এবং তীব্র দাবদাহে সব প্রাণীর নাভিশ্বাস উঠেছে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বর্তমানে চৈত্রের খরায় পুকুর এবং ছোট জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় উপজেলার অনেক উঁচু এলাকায় পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। অন্যদিকে প্রচণ্ড রোদের তাপ এবং গরমের ফলে ঝরে পড়ছে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের গুটি। এছাড়াও বোঁটা শুকিয়ে খসে পড়ছে গাছের লিচু। দিনভর সূর্যতাপে নুইয়ে পড়ছে গাছের পাতাও। নেতিয়ে পড়েছে সবজি। ফসলি খেত বৃষ্টির অভাবে অনেকটা ক্ষতির সম্মুখীন। এর মধ্যে ইরি ধানের খেত ফেটে একাকার। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি ফসল, গবাদি পশু ও মত্স্য খাতে ক্ষতির আশঙ্কায় পড়ছে।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, সারা দেশব্যাপী প্রকৃতির যে রূঢ় প্রভাব এর একমাত্র কারণই হচ্ছে জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন। আর পরিবর্তন যদি হয় ক্ষতিকারক, তবে সেটার মোকাবিলা করতে হবে সবাইকে। এজন্য প্রত্যেক এলাকায় বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
