নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
নাগরপুর দরগ্রাম ভায়া ছনকাবাজার সড়কের নাগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত এলজিইডির আওতাধীন সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর মাঝখানে দেবে গেছে, ভেঙে গেছে দুই পাশের রেলিং। বেশির ভাগ পিলারের পলেস্তারা উঠে গেছে। বেরিয়ে গেছে রড। কয়েক দিন আগে এক পাশে ভেঙে দেবে গেলেও ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে হাজারো মানুষ ও যানবাহন। যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর কোনো পাশেই লাগানো হয়নি ঝঁকিপূর্ণ লেখাসংবলিত সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড। করা হয়নি বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা। আর এই সড়ক দিয়েই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, সাটুরিয়াসহ ঢাকার যাত্রীরা।
ব্রিজের ঢালের মুদি দোকানি আব্দুস ছালাম (৬৯) বলেন, ‘নাগরপুর দরগ্রাম ভায়া ছনকাবাজার সড়কের নাগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন খালের ওপর সেতুটি নির্মিত হয় বাংলাদেশ স্বাধীনের আগে। এত বছর আগে সেতুটি নির্মিত হলেও আজ অবধি শুধু রেলিং রং করা ছাড়া আর কোনো প্রকার সংস্কার করা হয়নি। এত বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন যাবত্ সেতুর ওপর দিয়ে অতিরিক্ত মালবাহী যানবাহন চলাচল করায় এর এক পাশ ভেঙে দেবে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। সেতুটি যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।’
আজাদ নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ভয়ে থাকতে হয়, কখন যেন এটি ভেঙে পড়ে। এমন আশঙ্কা নিয়ে ঐ সেতুর ওপর দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত চলাচল করছি আমিসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ।’
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পাশে কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। তাই আমি জনসাধারণকে অনুরোধ করছি তারা যেন আপাতত নাগরপুর চৌরাস্তা হয়ে হাসপাতালের মাঠের পাশ দিয়ে চলাচল করেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য চেষ্টা করছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই পুনর্নির্মাণ করতে পারব।’
