ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
ফুলবাড়ীতে অবৈধভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ ও নিম্নমানের ইলেকট্রিকসামগ্রী ব্যবহার করার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে নিরীহ প্রাণ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত এ উপজেলায় বিদ্যুত্স্পৃষ্টে প্রাণ গেছে দুই শিশুশিক্ষার্থীসহ ১১ জনের। বিদ্যুত্স্পৃষ্টে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বিদ্যুিবভাগকে দায়ী করছেন। বিদ্যুত্স্পৃষ্টে নিহতরা হলেন—জুয়েল রানা (১৪), জহুরা বেগম (৫৪), শফিকুল ইসলাম (২৩), শম্পা রানী পাল (২০), ছামিউল ইসলাম (১৮), আব্দুল ছালাম (৪৫), আব্দুল মালেক উদ্দিন (৪৭), খোকন মিয়া (৩২), আশরাফুল ইসলাম (২৮), আল-আমিন (১২) ও আজিদুল ইসলামের ছেলে আলিমুল হক (৫)। নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা জানান, অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগ ও নিম্নমানের ইলেট্রিকসামগ্রী ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। বিদ্যুত্ বিভাগ ভালোমানের ইলেকট্রিকসামগ্রী ব্যবহারের জন্য গ্রাম-গঞ্জে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালালে গ্রাহকরা সচেতন হবে। গ্রাহক সচেতন হলেই বিদ্যুত্স্পৃষ্টে মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে আসবে।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির ফুলবাড়ী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা কামাল জানান, কোনো গ্রাহক যাতে অবৈধভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ দিয়ে সেচসহ বাসাবাড়িতে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য বিদ্যুত্ বিভাগ প্রতিটি পাড়ামহল্লায় জনসচেতনতামূলক মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণাসহ উঠান বৈঠক অব্যাহত রাখবে। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার ওসি রাজীব কুমার রায় জানান, ১৭ মার্চ দুই শিশুসহ গত আট মাসে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। গ্রামগঞ্জে গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুত্ ব্যবহারের ওপর জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালালে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে আসবে।
