খারাপ সময় কাটাইয়া উঠুক ক্রিকেট দল

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪৬

ক্রীড়া শুধু শরীর সুস্থ রাখিবার জন্য নহে, যে কোনো ধরনের ক্রীড়া দর্শকদের বিনোদন দিয়া থাকে। সেই সঙ্গে খেলাধুলা এখন আর কেবল বিনোদনেই আটকাইয়া নাই, ইহা বিশাল এক বাণিজ্য ও মর্যাদার অংশ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। এই ক্রীড়া যদি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হয়, তাহা হইলে তো কথাই নাই। বিশেষ করিয়া ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, রাগবি, টেনিসের মতো খেলাগুলি দেশে দেশে শুধু ব্যয়বহুলই নহে, ইহা একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের ভাবমূর্তি তৈরিতেও সাহায্য করিয়া থাকে।

বাংলাদেশে জনপ্রিয় খেলাগুলির মধ্যে অন্যতম ক্রিকেট। বিশেষ করিয়া আশির দশক হইতে ক্রিকেট বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। টেস্ট ও ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাইবার পর বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকিয়া পড়ে ক্রিকেটের দিকে। অর্থাত্ বর্তমানে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার ধারেকাছে কোনো খেলা নাই। বাংলাদেশের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডও শক্তিশালী হইয়া উঠে। ফলে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে ক্রিকেট লইয়া প্রত্যাশাও বাড়িয়া গিয়াছে। ইহাও সত্য, এই ক্রিকেট হইতে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত অনেক প্রতিভাবান তারকা খেলোয়াড়ও পাইয়াছি। অনেকবার দেশের ক্রিকেটাররা অনেক মর্যাদাসম্পন্ন আয়োজনে বিশ্বের বড় বড় দলের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করিয়াছে, দর্শকদের প্রশংসা কুড়াইয়াছে। একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে শিরোপার কাছাকাছি গিয়াও ফিরিয়া আসিতে হইয়াছে। কিন্তু শিরোপা না জুটিলেও সেই সকল আয়োজনে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্ববাসীকে যথেষ্ট বিনোদন দিয়াছে। কিন্তু অতি সম্প্রতি লক্ষ করা যাইতেছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখিতে বেগ পাইতে হইতেছে। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সফরে তাহাই দেখা গিয়াছে। তিনটি এক দিনের ম্যাচ এবং তিনটি টি-২০ ম্যাচের কোনোটাতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ঘুরিয়া দাঁড়াইতে পারে নাই। এই ছয়টি ম্যাচের কোনোটাতেই, কোনো সময়েই মনে হয় নাই যে খেলা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হইবে। মূলত ইহাই দর্শকদের অধিক হতাশ করিয়াছে। ব্যাট, বল ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই ভীষণ ম্লান দেখা গিয়াছে টাইগারদের। পরাজয়ের ধরন দেখিয়া মনে হইয়াছে যেন অসম দুইটি দল মুখোমুখি হইয়াছে। যদিও ঘরোয়া পরিবেশে খেলার কারণে প্রতিটি দল কিছু বাড়তি সুবিধা পাইয়া থাকে, কিন্তু তারতম্যটা বড় বেশি হইয়া গিয়াছে। বেশ কিছুকাল ধরিয়াই দেশের দর্শকরা তাহাদের জাতীয় দলকে এতটা দুর্বল বলিয়া ভাবিতে অনভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছিল। তাহারা জানে খেলায় হারজিত আছে, কিন্তু প্রতিযোগিতা না দেখিতে পাইলে তাহা আর খেলা থাকে কী করিয়া?

তবে আশার কথা হইল, ক্রিকেটকে বলা হয় গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। বহুবার বহু বড় বড় দলকে আমরা খারাপ সময়ের মধ্যে যাইতে দেখিয়াছি। ক্রিকেটের শক্তিশালী দেশগুলিতে ব্যক্তি খেলোয়াড়ের পাশাপাশি জাতীয় দলও অনেক সময় ঝিমাইয়া পড়ে। আবার জাগিয়া উঠে। ইহা ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো ক্রিকেটের সকল বড় দলের ক্ষেত্রেই দেখা গিয়াছে। এমনও দেখা গিয়াছে, যেই দলে তিন-চার জন ডাবল সেঞ্চুরিতে অভ্যস্ত খেলোয়াড় রহিয়াছেন সেই দলের সকলে মিলিয়া ৪০ রান করিয়া আউট হইয়া গিয়াছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ইহাই ঘটিয়াছে বলিয়া আমরা ভাবিতে চাহি। অর্থাত্ দুর্বল পারফরম্যান্স যেন আমাদের জাতীয় দলের অভ্যাসে পরিণত না হয়। যদিও আমরা এখন করোনা ভাইরাসের জন্য কঠিন চাপে রহিয়াছি। খেলোয়াড়রাও তাহাদের নিয়মিত প্র্যাকটিস ধরিয়া রাখিতে পারিতেছেন না। কিন্তু উহা তো অন্যান্য দলের ক্ষেত্রেও সত্য। 

এই ক্রিকেটের মান ফিরাইয়া আনিতে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সুসম্পর্ক ধরিয়া রাখিতে হইবে, খেলোয়াড়দের উপর মানসিক চাপ না পড়ে সেই দিকে লক্ষ রাখিতে হইবে। খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বোর্ডকে পেশাদারিত্বের পরিচয় প্রদান করিতে হইবে। তাহা হইলেই আমাদের জাতীয় দল পরবর্তী সিরিজগুলিতে ভালো ফলাফল দেশকে উপহার দিতে পারিবে বলিয়া আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।