স্পোর্টস রিপোর্টার
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পূর্ণ সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে ২০০০ সালে পুরুষ ক্রিকেটে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছিল বাংলাদেশ। পূর্ণ সদস্যের মর্যাদায় এবার নারী ক্রিকেটেও টেস্টের অভিজাত আঙিনায় নাম লেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়ে গেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। বাকি রয়েছে কিছু আনুষ্ঠানিকতা শুধু।
গত বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে অনুষ্ঠিত হয় আইসিসির বোর্ড সভা। যেখানে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর নারী দলকে স্থায়ীভাবে ওয়ানডে ও টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এ সিদ্ধান্তের ফলেই সাদা পোশাকে ক্রিকেট খেলার স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ নারী দল। বাংলাদেশের সঙ্গে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তানের নারী দলও কুলীন ক্লাবে নাম লেখাচ্ছে। গতকাল বিসিবির পরিচালক ও উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা যেভাবে জেনেছেন, আমরাও সেভাবেই জেনেছি। এখনো অফিশিয়ালি কাগজপত্র পাইনি। এটা পাওয়ার পরই কীভাবে সামনের দিকে যাব, তা ঠিক করা হবে।’
নারী ক্রিকেটে টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে একবার উদ্যোগ নিয়েছিল বিসিবি। দুই দিনের ম্যাচের লিগ আয়োজনের জন্য বিসিবি একাডেমি মাঠে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছিলেন নারী ক্রিকেটাররা। যদিও লংগার ভার্শন এ টুর্নামেন্ট আর মাঠে গড়ায়নি টি-২০ বিশ্বকাপের ব্যস্ততার কারণে।
করোনার প্রকোপ কমলে নারী ক্রিকেটে লংগার ভার্শন টুর্নামেন্ট শুরু করতে চায় বিসিবি। শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ নারী দল। টেস্ট খেলার জন্য একটা রোডম্যাপ করা হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে লংগার ভার্শন খেলে টেস্টের জন্য তৈরি হবে আমাদের ক্রিকেটাররা। অচিরেই দুই দিনের ম্যাচের লিগ আয়োজন করবে বিসিবি।
বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিরুদ্ধে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজের প্রস্তুতিতে রয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। সিলেটে সিরিজ শুরু হবে আগামীকাল।
নারী ক্রিকেটে এতদিন টেস্ট খেলুড়ে দেশ ছিল দশটি। ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তানের সঙ্গে ছিল আইসিসি সহযোগী নেদারল্যান্ডস।
এদিকে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেছেন, এই স্বীকৃতি দেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ওয়ানডে মর্যাদা পায় বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০১৮ সালে ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সালমা-রুমানারা।
