আখ বিক্রির টাকা না পেয়ে বিপাকে চাষীরা

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৪৫

উপজেলা পর্যায়ে আখ সংগ্রহ কার্যক্রম চলাকালে ৮টি আখ ক্রয় সাব সেন্টারে আখ দিয়েছিলেন চাষীরা। সে সময় থেকে অদ্যাবধি দুইমাস পার হয়েছে। আজ পর্যন্ত আখের টাকা পায়নি চাষীরা। মিল কর্তৃপক্ষ তাদের টাকা দেয়নি এমন অভিযোগ উপজেলার আড়ানী সাব জোনের আখ চাষীদের।

জানা যায়, বাঘা উপজেলার আড়ানী সাব জোনের অধীনে ৮টি আখ ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রের আওতায় রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার আখ চাষী। চলতি আখ মৌসুমে মোবাইল ম্যাসেজ পাওয়ার পর মিলে আখ সরবরাহ করেন আখ চাষীরা।

সূত্র মতে, রাজশাহী সুগার মিলের আওতায় চলতি আখ মৌসুমে আনুষ্ঠানিকভাবে আখ মাড়াই উদ্বোধন করা হয় ২৩ নভেম্বর ২০১৮। এর আগের উপজেলা আখ ক্রয় কেন্দ্রগুলো থেকে আখ সংগ্রহ শুরু করে মিল কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিকে কয়েকটি বিল চাষীদের দেওয়া হলেও পরে আর দেওয়া হয়নি।

আড়ানী আখ ক্রয় কেন্দ্রের নুর নগর ইউনিটের আখ চাষী শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, ‘আমি যে আখ দিয়েছি সে মোতাবেক চিনি কল থেকে ৭৪ হাজার টাকা পাই। আমাকে টাকা পরিশোধ করা হয়নি। টাকা না পেয়ে অন্য ফসল আবাদ করতে পারছি না।’

পাঁচপাড়া ইউনিটের চাষী আবদুল মালেকের অভিযোগ, ‘আমি ৩২ হাজার টাকার আখ দিয়েছি। লোন কেটে নেওয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ২২ হাজার টাকা দুই মাস অতিবাহিত হলেও দেওয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলার আড়ানী আখ ক্রয় কেন্দ্রের সাব জোন প্রধান রুস্তম আলী বলেন, ‘পূর্জি অনুযায়ী সিআইসি আখ ক্রয় করেছে। সে মোতাবেক বিলও দিয়েছে। টাকা পরিশোধ করবে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইসি বশির উদ্দিন বলেন, ‘পূর্জি অনুযায়ী এখনো আখ ক্রয় চলছে। চাষীদের বিল দেওয়া হচ্ছে। তবে চাষীরা টাকা কবে নাগাদ পাবে এটা আমার জানা নেই।’

আরো পড়ুন: ভাঙছে পাকিস্তান, আরেক বাংলাদেশ হচ্ছে ‘পশতুনিস্তান’

রাজশাহী চিনি কলের এমডি আশফাকুর রহমান বলেন, ‘হেড অফিস থেকে আমাদের কাছে টাকা সরবরাহ করা হয়নি। টাকা পেলে তাৎক্ষনিক আখ চাষীদের মাঝে তাদের বিল (নগদ অর্থ) প্রদান করা হবে। আশা করা যায়, আগামী দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিল দেওয়া হবে।’ 

ইত্তেফাক/অনি/নূহু