সাভারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তপ্ত আন্ডারওয়ার্ল্ড

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২১, ২২:১১

চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

তুহিন খান

পেশাদার সন্ত্রাসীদের মধ্যে নয়া মেরুকরণ হওয়ায় সাভার উপজেলার আন্ডারওয়ার্ল্ড ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কয়েকটি পেশাদার সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ গ্রুপ জনবল ও অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। রীতিমতো মোটরসাইকেল মহড়া থেকে শুরু করে নিজেদের আধিপত্য দেখাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকায়। এ সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, বিভিন্ন ফ্যাক্টরির ঝুট ব্যবসা এমনকি কৌশলে ব্ল্যাকমেইল করে সাধারণ মানুষের জমি লিখে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এলাকায় একাধিক গ্রুপের আধিপত্যের কারণে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। সাভারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। রাজধানীর নিকটবর্তী সাভার শিল্পনগরী হওয়ায় এখানে প্রায় ৬০ লাখ লোকের বসবাস। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সাভারে আসে। ফলে বসবাসকারীদের মধ্যে সিংহভাগই থাকে অপরিচিত। তাই এরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।

একটি সূত্র জানায়, চক্রটি সাভারের বিভিন্ন স্থানে কিংবা আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় নাম না থাকায় তারা থাকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এভাবে একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। সম্প্রতি সাভারের চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র রোহান হত্যাকাণ্ড বেশ আলোচিত হয়েছে। প্রকাশ্যে জনবহুল এলাকায় ৪০-৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ তাকে হত্যা করে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে আশপাশের লোকজন দাঁড়িয়ে দেখলেও প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। এ হত্যাকাণ্ডে এজাহারভুক্ত আসামি রাকিবুল ইসলাম রকিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয় পুলিশ। পুলিশকে মারধর করে রকিকে ছিনিয়ে নেয় তার সহযোগীরা। পরবর্তী সময়ে র্যাব সদস্যরা রকিকে গ্রেফতার করে।

এছাড়া এক পরিবহন স্টাফকে চাঁদার দাবিতে মারধরের ঘটনায় তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতের শিকার হন এক পুলিশ সদস্য। আহত পুলিশ সদস্যের নাম রাব্বি। সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

গত ১০ মার্চ সাভার উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজারের দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয় অন্তত ৫ জন। সন্ত্রাসীদের মহড়ায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশুলিয়ায় দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় সেলিম নামে এক মত্স্য খামারিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। আশুলিয়ার নলাম দেওয়ানটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সমপ্রতি পূর্বশত্রুতার জের ধরেই ভাকুর্তার আক্কেল আলীর ছেলে ইমরান হোসেন নামক এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সাভারের সীমান্তবর্তী উত্তর কেরানীগঞ্জ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ জানান, কিছু বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তত্পর রয়েছে।