গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে আফগান সরকার ও তালেবানদের মধ্যকার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১ মে'র মধ্যে দেশটি থেকে সকল মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করার কথা। নির্ধারিত সময় শেষ হতে আরো এক মাসেরও কম রয়েছে। কিন্তু সৈন্য প্রত্যাহার হবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হোয়াইট হাউজের তথ্যানুসারে, আফগানিস্তানে এখনো তাদের আড়াই হাজার সেনা অবস্থান করছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেনাদের প্রত্যাহার করার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাইডেন প্রশাসন। এখন তারা যেই সিদ্ধান্তই নেয়, তা কেবল আফগানিস্তানে থাকা দলগুলোর বিশেষত তালেবানদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেতেই প্রভাব ফেলবে না, বরং দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে আগ্রসর হবে তাও নির্ভর করছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, আফগানিস্তান ইস্যুতে দুটি কৌশল নিয়ে সামনে এগোচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। এর মধ্যে একটির ব্যাপারে গত মাসে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনী ব্লিংকেন। সেখানে বলা হয়েছে, তালেবান ও আফগান সরকারকে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে হবে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ মিলে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন কিংবা নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তাহলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মার্কিন সেনাদের সম্পূর্ণরুপে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
অপর কৌশলটি হলো- চলমান এপ্রিল মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আফগান সরকার ও তালেবান প্রতিনিধিদের শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করা। যেখানে রাশিয়া ও চীনসহ আরো কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্য দিয়ে তালেবানদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করা ও সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য করানো।
অবশ্য আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি তালেবানদের সঙ্গে মিলে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করতে রাজি নন। প্রয়োজনে নির্বাচনের আয়োজন করবেন। এরপরই ক্ষমতা হস্তান্তর।
ইত্তেফাক/টিএ
